প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাগেরহাট, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ : মোংলায় স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘একবেলার মেহমানখানা’য় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম মাটিতে বসে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের সঙ্গে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি উপস্থিত অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও আশপাশের গ্রামের অসহায়, দুস্থ, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষের মুখে সপ্তাহে অন্তত একবেলা পুষ্টিকর ও ভালো মানের খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় যুবসমাজ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত এক বছর ধরে, নিজস্ব অর্থায়ন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ আয়োজন চলমান রয়েছে।
শুক্রবার মোংলায় সরকারের পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি প্রশাসনিক কর্মসূচি পালন শেষে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম স্থানীয় যুবকদের এ মানবিক উদ্যোগের কথা জানতে পারেন। এরপর তিনি কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সরাসরি মেহমানখানার অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন।
সেখানে গিয়ে তিনি চেয়ার-টেবিলে না বসে মাটিতে চট বিছিয়ে বসে থাকা ক্ষুধার্ত ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে বসেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। পরে তার সঙ্গে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মোংলা থানার পুলিশ কর্মকর্তা এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ রাজনৈতিক নেতারাও সেখানে বসে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।
খাবার গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "আমাদের এই জাঁকজমকপূর্ণ সমাজের অন্তরালে এখনো বহু অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষ রয়েছেন, যারা দু-মুঠো অন্ন জোগাড় করতে হিমশিম খান। তারা একবেলা ভালোভাবে খেতেও পারেন না।" তিনি আরও বলেন, "এসব অবহেলিত মানুষকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন একবেলা ভালো খাবার খাওয়ানোর যে উদ্যোগ স্থানীয় যুবসমাজ নিয়েছে, তা অত্যন্ত মহতী ও প্রশংসনীয়।"
তিনি উল্লেখ করেন, "সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে এ ধরনের মানবিক কাজে বিত্তবানসহ সমাজের সবার এগিয়ে আসা উচিত। এর মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় ও অটুট থাকে এবং আমরা সবাই একে অপরের সুখ-দুঃখের প্রকৃত সাথি হতে পারি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন