প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণে বিনিয়োগ বা ট্রেজারি সিকিউরিটিজ ধারণের পরিমাণ কমিয়ে ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বন্ড বাজারের অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল হিসেবে বেইজিং ধারাবাহিকভাবে তাদের রিজার্ভ কমাচ্ছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চীনের ট্রেজারি সিকিউরিটিজ ধারণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ১৮ বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার পর থেকে বেইজিংয়ের হাতে মার্কিন বন্ডের পরিমাণ এত কম কখনো দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন মার্কিন ঋণে বিনিয়োগ কমানোর পেছনে বেশ কয়েকটি কৌশলগত কারণ রয়েছে:
১. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য: চীন তাদের রিজার্ভকে শুধুমাত্র মার্কিন ডলার বা বন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সোনা (Gold) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
২. মার্কিন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: মার্কিন সরকারের ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ এবং সুদের হারের ওঠানামা বৈশ্বিক বন্ড বাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
৩. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব এবং সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে চীন তাদের সম্পদ ডলার-ভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
একসময় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা ছিল চীন। তবে বর্তমানে চীন ক্রমাগত বিক্রি বাড়ানোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে জাপান এবং যুক্তরাজ্য মার্কিন বন্ডে তাদের ধারণ বৃদ্ধি করছে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দূরত্বের প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক শেয়ারবাজার এবং বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে পড়ছে। বিশেষ করে, চীন মার্কিন ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য (Deddolarisation) আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন