প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংক থেকে অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির বৈঠকে সারা দেশে বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্মাণকাজে ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহারের সুপারিশও করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু, মো. আব্দুল মান্নান এবং সুলতানা জেসমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের ফলে পরিবেশের ক্ষতি না হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারি নির্মাণাধীন অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। পরিবেশ দূষণ কমাতে নির্মাণকাজে প্রচলিত পোড়ামাটির ইটের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থায়ন না হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হবে। এই উদ্দেশ্যে কমিটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে বর্তমানে কতগুলো বৈধ ও অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা তৈরির মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি হবে বলে কমিটি মনে করছে।
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত ১০১টি প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কমিটির সামনে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। গত ১৬ বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার ও বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা বাজেট ব্যয়ের পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন