প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এআই হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন এবং তাঁর দল। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে তাঁর উদ্ভাবিত ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দলটি ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল পুরস্কার লাভ করেছে। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২ হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবক অংশগ্রহণ করেন। পুরস্কার গ্রহণ করেন দলের সুপারভাইজার ড. এ কে এম আজাদ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘এআই হ্যাকাথন ফর পিপল উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবজুড়ে ২ হাজার ২৫১টি প্রজেক্ট জমা পড়ে। চার ধাপের বাছাই প্রক্রিয়ার পর ১৩০টি প্রজেক্ট চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে সায়েমের প্রকল্প প্রথম স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতাটি কিং সালমান সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি রিসার্চের (কেএসসিডিআর) আয়োজনে সপ্তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধিতা গবেষণা সম্মেলনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
পুরস্কার হিসেবে দলটি ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল পেয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকার অধিক। সৌদি রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স সুলতান বিন সালমান আল সৌদের কাছ থেকে বিজয়ীরা পুরস্কার গ্রহণ করেন। প্রজেক্টটির সুপারভাইজার ছিলেন সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ কে এম আজাদ। দলের সদস্য হিসেবে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াকুব শাকিল।
সায়েমের উদ্ভাবিত ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা গ্রহণকে সহজতর করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত ব্রেইল বইয়ের ডটগুলো ছোট হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সেগুলো শনাক্ত করা এবং শেখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এছাড়া ইংরেজি ভাষার ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী ও গ্রন্থাগার তুলনামূলকভাবে সমৃদ্ধ হলেও আরবি, বাংলা ও উর্দুর মতো ল্যাটিন-বহির্ভূত লিপির ভাষায় ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশেষ করে আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কাছে আরও সহজলভ্য করে তোলাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
নিজের উদ্ভাবন সম্পর্কে সায়েম হোসেন বলেন, “বিশ্বের ২৩টি আরবিভাষী দেশ এবং ৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার চিন্তা থেকেই এ উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিই। আমার লক্ষ্য, যেসব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী নেই, তাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার সুবাদে প্রতিবন্ধিতা ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি।”
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, “বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ভালো করছে। সায়েমের এ অর্জন প্রশংসনীয়। আশা করি, ভবিষ্যতে সে আরও ভালো করবে। বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গবেষণায় কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবে গেছেন এবং ছয় থেকে আটজন শিক্ষক জিএসটিতে রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন