প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জোয়ারের সঙ্গে আসা নোনা পানি ধীরে ধীরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদী ও খাল-বিলকে গ্রাস করতে শুরু করেছে। যদিও পরিস্থিতি এখনও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার কৃষিজমিতে এর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীতে উজানের মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
মধুমতী নদীর পাশে কৃষক আসাদুজ্জামানের একটি জমি রয়েছে। আগে নদীর পানি দিয়ে সেচ দিলেই ফসলে মাঠ ভরে উঠত। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গাছগুলো মরে যাচ্ছে এবং নানা রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। ফলস্বরূপ, ফসলের ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কৃষক আসাদুজ্জামান জানান, "ভালো ফসল হয় না। আগে অল্প সার প্রয়োগ করেই ভালো ফলন পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর তা হচ্ছে না।"
একদিকে নদ-নদীতে উজান থেকে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহ কমছে, অন্যদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। ফলে জোয়ারের সঙ্গে আসা নোনা পানি ক্রমেই উত্তরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে সাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ নদে লবণাক্ততার মাত্রা ৩২ দশমিক ১২ ডিএস/এম-এ পৌঁছেছে।
গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীতে লবণাক্ততার মাত্রা ৪ দশমিক ১৬ ডিএস/এম পাওয়া গেছে, যেখানে কৃষিকাজের জন্য পানির আদর্শ সহনীয় মাত্রা ২ ডিএস/এম। মূলত উজানের পানির প্রবাহ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার কারণে সাগরের নোনা পানি নদীপথ ধরে ভেতরের দিকে প্রবেশ করছে। এর ফলে লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে, যা মাটি, পানি, ফসল ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর মিষ্টি পানির অন্যতম প্রধান উৎস গঙ্গা-পদ্মার প্রবাহ। তবে শুষ্ক মৌসুমে ভারত এসব নদীর পানি আটকে রাখায় এ অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, "উজান থেকে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি নদীর তলদেশ ভরাট করছে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বিস্তীর্ণ এলাকা লবণাক্ততার ঝুঁকিতে পড়বে।"
এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে শুধুমাত্র নদী খনন করাই যথেষ্ট নয়। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী আরও বলেন, "উজানের দিকে খাল-নদীর সঙ্গে সংযুক্ত যেসব জলপথ ভরাট হয়ে আছে, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় খনন করতে হবে। একই সঙ্গে মিষ্টি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ খননকাজ সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা জরুরি।"
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও জনবসতির ওপর হুমকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন