প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শাল্লা উপজেলায় সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের বাণিজ্যিক স্থান ভাড়া নেওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের দাবি, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, গত ২৯ আগস্ট ভবনের দুটি কক্ষে ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’ লেখা সাইনবোর্ড লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।
চুক্তিপত্র অনুযায়ী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ‘প্রস্তাবিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ স্থাপনের জন্য রনি সূত্রধরের সঙ্গে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই চুক্তি সম্পাদন করা হয়। চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ২২ হাজার টাকা এবং দুই লাখ টাকা জামানতের উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভাড়া নেওয়া স্থান শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং প্রথম পক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভবনের অন্য কোনো তলা, ছাদ, বারান্দা বা খালি জায়গা ব্যবহার বা দখল করা যাবে না। অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থান হস্তান্তর বা উপ-ভাড়া দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, চুক্তির পর থেকে তারা ক্লিনিকের জন্য ফার্নিচারসহ বিভিন্ন কাজ করে আসছেন এবং উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে গত ২৯ আগস্ট ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’-এর নামে দুটি কক্ষে সাইনবোর্ড লাগানোর পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ক্লিনিকপক্ষের অভিযোগ, বাদল চন্দ্র দাস ও সন্দীপন দাস সুজন নামে দুই ব্যক্তি প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড লাগানোর সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, বিপ্লব রায় নামের একজনও এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং তার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে প্রেসক্লাবের পক্ষের লোকজনের উপস্থিতি ও যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন যে, দলের নেতাদের একটি অংশের এমন অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপির অপর একটি পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, "আমরা রনি সূত্রধর নামের একজনকে ক্লিনিকের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ভাড়া দিয়েছি। প্রেসক্লাবের নামে যারা সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন, তারা অনেক আগে থেকেই নিয়েছিলেন। তবে তারা এখন পর্যন্ত কোনো সিকিউরিটি দেননি এবং এক টাকাও ভাড়া পরিশোধ করেননি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে কী করা যায়, তা দেখব।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াসচন্দ্র দাসের সঙ্গে সাংবাদিকরা রাতে যোগাযোগ করলে তিনি অসুস্থতার কারণে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। পরদিন সকালে ক্লিনিকপক্ষের লোকজন তাঁর সঙ্গে কথা বললে তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনার একটি ভবনে একই স্থানের দখল ও ব্যবহার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চুক্তিপত্রের শর্ত, ভাড়া ও জামানত প্রদান এবং প্রেসক্লাবের নামে কক্ষ ব্যবহারের বৈধতা—এসব বিষয় প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রনি সূত্রধরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, "এখানে আরও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রয়েছেন। তাঁর ষড়যন্ত্রেই আমার ভাড়া নেওয়া স্থানে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। চুক্তি অনুযায়ী আমি জায়গাটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য ভাড়া নিয়েছি এবং ইতোমধ্যে সেখানে বিভিন্ন কাজে অর্থ ব্যয় করেছি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন