প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কর্মজীবী মায়েদের সুযোগ সুবিধার লক্ষ্যে এবং শিশুদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক উন্নয়নের জন্য সারা দেশে দিবা পরিচর্যা (ডে কেয়ার) কেন্দ্র স্থাপনের আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেছেন, দিবা পরিচর্যা কেন্দ্র শিশুদের শুধুমাত্র নিরাপদে থাকার স্থান নয়, এই কেন্দ্র দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য অন্যতম সহায়ক মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
সোমবার রাজধানীর পানি ভবনে ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান এই বিষয়ে আলোচনা করেন। এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
দেশে নারী ও শিশুদের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৫০.৫৮ শতাংশ নারী, যা প্রায় ৯০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন। মোট জনসংখ্যার ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে রয়েছে। দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রবিহীন কর্মজীবী মা-বাবাদের জন্য জীবন ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠিন। সংসারের খরচ চালানোর জন্য চাকরিরত মায়েরা অনেক সময় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
তিনি তথ্য দিয়ে বলেন, বর্তমানে দেশে ১২৩টি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে ৭ হাজার ৩৬০টি শিশু পরিচর্যা নিচ্ছে, যা মোট শিশু জনসংখ্যার মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৩৪ শতাংশ।
নিজের স্কুলজীবনের একটি শিক্ষিকার উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়ে আবেগঘন স্মৃতি শেয়ার করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, আমাকে একজন শিক্ষিকা তার শিশুকন্যাকে বাসায় একা রেখে টিউশন ও শিক্ষকতা করতে যেতে দেখেছি। একদিন আমরা স্যারকে বাসায় নামিয়ে দিতে গিয়ে দেখতে পাই, শিশুটি জানালার গ্রিল ধরে মায়ের ফেরার অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে। মাত্র সাতটি ক্লান্তির পর মা ঘরে ফিরে আদর ও যত্নের সঙ্গে শিশুকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, মা যে কাজের জন্য নিশ্চিন্তে মনোযোগ দিতে পারেন না, তা কেবল তার জন্য কষ্টকর নয়, শিশুটিও অনেক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়। একা ঘরে থাকা ওই ছোট্ট মেয়েটি পরে উন্নত চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ, সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। সে শৈশবের একাকিত্বের স্মৃতি নিশ্চয়ই তার জন্য মারাত্মক কষ্টদায়ক ছিল।
আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, মানসম্মত সার্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে শিশুদের জ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক উন্নয়ন শক্ত ভিত্তির ওপর গড়ে উঠবে। শৈশবে শিশুদের সততা, নিষ্ঠা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তি রচনা করা হয়।
কর্মশালায় কেয়ারগিভারদের (সেবাদানকারী) মানবিক ও কঠিন কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আপনারা অন্যের শিশুদের পরম স্নেহ ও যত্নে বড় করছেন। আপনারা আছেন বলেই বহু মা-বোন নিশ্চিন্তভাবে চাকরিতে যোগদান করতে পারছেন। এইভাবে আপনারা দুটি ভিন্ন কাজ করছেন— একদিকে নারী জনসংখ্যাকে বেকারত্বের বোঝা থেকে মুক্তি দিচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি করতে সাহায্য করছেন।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বক্তব্য রাখেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন