প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ডিস্কো ড্যান্সার’-এর জনপ্রিয় গান ‘জিমি জিমি আজা আজা’ আজও দর্শকদের মনে অমলিন। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও সেই গানের জনপ্রিয়তা যে কমেনি, তা আবারও প্রমাণ করেছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি রাশিয়ার একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এই গানের তালে নেচে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
তার নাচের ভিডিও ইতিমধ্যেই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়ায় ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ দীর্ঘকাল ধরে জনপ্রিয়। সিনেমাটির সেই সাফল্য ও স্মৃতি উদযাপন করার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার জনপ্রিয় টক শো ‘প্রিভিয়েত, আন্দ্রে’-এ হাজির হয়েছিলেন মিঠুন। সেখানে ‘জিমি জিমি আজা আজা’ গানে তার নাচ দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় পুরোনো দিনের স্মৃতিতে।
মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সপ্তাহে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী সফর করছিলেন মিঠুন। সেই সফরের সময় টেলিভিশন অনুষ্ঠানটির শুটিং হয়। ‘ডিস্কো ড্যান্সার’-এর মাধ্যমে মিঠুন যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তা আজও দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে কিছু গান ও স্মৃতি সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না।
সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের উচ্ছ্বাস
মিঠুন চক্রবর্তীর নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ভক্তরা নানা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। অনেকেই উল্লেখ করেছেন রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’-এর দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার কথা।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘পারিবারিক অনুষ্ঠানে জিমি জিমি গানটি বাজলে আমার মায়ের এখনও চোখে জল চলে আসে। অথচ ডিস্কো ড্যান্সার মুক্তির সময় তার জন্মই হয়নি। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পরবর্তী প্রজন্মের উপরও মিঠুনদার প্রভাব কতটা গভীর, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হওয়ার আগে ডিস্কো ড্যান্সার সেখানে অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা ছিল।’ অন্য এক ভক্তের মন্তব্য, ‘মিঠুনদা রাশিয়ারও সুপারস্টার।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে মিঠুন চক্রবর্তী ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। ডিস্কো ড্যান্সার সেখানে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল।’
যেভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের দর্শকদের মন জয় করেছিল ‘ডিস্কো ড্যান্সার’
আশির দশকে ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয়তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে বলিউডের ছবির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই জনপ্রিয়তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত ‘ডিস্কো ড্যান্সার’।
১৯৮৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে মুক্তি পাওয়ার পর ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। মিঠুনের নাচ, আকর্ষণীয় গল্প এবং জনপ্রিয় গান দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। শীতল যুদ্ধের সময়ে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব নিয়ে নানা রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিতর্ক থাকলেও ভারতীয় সিনেমা সোভিয়েত দর্শকদের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।
এ ছাড়া আবেগঘন কাহিনি, মনমাতানো সুর এবং বর্ণময় উপস্থাপনার মাধ্যমে বলিউডের ছবিগুলো ভাষার বাধা পেরিয়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যায়। ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ও সেই সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অন্যতম স্মরণীয় উদাহরণ হয়ে ওঠে। ছবির ‘জিমি জিমি আজা আজা’ গানটি এবং মিঠুনের স্বতন্ত্র নাচ বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল।
তার অভিনয় ও নাচের প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ এমনই ছিল যে, ছবিটির জনপ্রিয়তা মুক্তির বহু বছর পরেও আলোচনায় থেকে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হলেও ‘ডিস্কো ড্যান্সার’-এর স্মৃতি আজও বহু দর্শকের কাছে অমলিন।
সোভিয়েত ইউনিয়নে মুক্তির বছরে অন্যতম সফল ছবি হয়ে ওঠার পাশাপাশি আশির দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে বিশেষ জায়গা করে নেয় ‘ডিস্কো ড্যান্সার’।
ছবিতে মিঠুন অভিনয় করেছিলেন এক দরিদ্র পথশিল্পীর চরিত্রে। মায়ের সঙ্গে অপমানিত হয়ে বোম্বে ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে একসময় খ্যাতির শিখরে পৌঁছায় সে। কিন্তু সাফল্য এলেও অতীতের শত্রুরা তার জীবন ও কেরিয়ার ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। সংগ্রাম থেকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর এই কাহিনি দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে গিয়েছিল।
‘জিমি জিমি’ গানে মেতে উঠেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন
মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘জিমি জিমি আজা আজা’ একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নে রেডিও থেকে বিয়েবাড়ি, এমনকী রাস্তাঘাটেও শোনা যেত। গানের তালে নাচতেন সাধারণ মানুষ। ভাষা না বুঝলেও গানের সুর ও ছন্দে মেতে উঠেছিলেন অসংখ্য দর্শক।
ঠিক কী কারণে গানটি এত জনপ্রিয় হয়েছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বাপ্পি লাহিড়ীর সুর, ডিস্কো সংগীতের আকর্ষণীয় ছন্দ এবং মিঠুন চক্রবর্তীর নাচ, সব মিলিয়ে গানটি শ্রোতাদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল। পাশাপাশি, ‘ডিস্কো ড্যান্সার’-এর সহজবোধ্য গল্প ও মনোরঞ্জক উপস্থাপনও দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন