প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ইসলামী ছাত্রশিবিরের অতীত নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি অতীতে বলতেন—‘আমরা যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিতব, সেদিন বাংলাদেশে ইসলাম বিজয়ী হবে’। বর্তমানে ডাকসুসহ দেশের শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তার মাধ্যমে দেশে ইসলামের বিজয়ের পূর্বাভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী আয়োজিত পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষ্যে ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ছাত্রজীবনের স্মৃতি তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা যখন শিবির করতাম, তখন কেন্দ্রীয় সভাপতিদের কাছে জানতে চাইতাম—দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংসদে আমরা বিজয়ী হচ্ছি, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে বিজয়ী হব? তখন আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতিরা দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দিতেন, ‘আমরা যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিতব, ডাকসুতে বিজয়ী হব, সেদিন বাংলাদেশে ইসলাম বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠিত হবে।’ আজ ডাকসুতে বিজয়ের মাধ্যমে এবং দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবিরের সাফল্যের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহাসিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের স্পষ্ট আলামত জাতি প্রত্যক্ষ করছে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেদিন আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও বামপন্থীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢাকার চতুর্দিক থেকে পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল। আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী যখন মঞ্চে ছিলেন, তখন শিবিরের তরুণ নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে বুক দিয়ে মানবঢাল তৈরি করেছিলেন। তারা শহীদ হয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন, তবুও বাতিলের রক্তচক্ষুর সামনে মাথা নত করেননি।’
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রক্তপাত ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ দেশে এক-এগারোর অগণতান্ত্রিক সরকার এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পথ সুগম করেছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা এবং সাজানো মামলার মাধ্যমে জামায়াত শীর্ষ নেতাদের বিচারিক হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা সেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জনগণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে কোনো আপস বা সমঝোতার জন্য নয়। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চায়, তবে জনগণ তাদেরও ক্ষমা করবে না।’ তিনি অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডিসহ বিগত দেড় দশকের সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন