প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় দোকানঘর নির্মাণ নিয়ে বিরোধের কারণে বাবু রাঢ়ী (২৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৪ জুন) ভোরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসার আগেই তার মৃত্যু ঘটে।
এর আগে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে, ওই বিরোধের প্রেক্ষিতে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে স্থানীয় বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার, নয়ন পোদ্দারসহ মোট ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল বাবু রাঢ়ীর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বাবু রাঢ়ী নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তবে তার নিষ্ঠার কোনো পদ বা পদবী ছিল না। বাবু রাঢ়ীর পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, পশ্চিম সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার নিজের জমিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এতদিন ধরে প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধ চলছিল।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে, বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্থানীয় বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার, নয়ন পোদ্দারসহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল বাবু রাঢ়ীর বিরুদ্ধে হামলা চালায়। হামলায় হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে, ফলে বাবুর মাথা ফাটে এবং হাত-পা ভেঙে যায়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী এক নারীর মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহত বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী ঘটনাস্থল থেকে তাকে গুরুতর আহত এবং অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এরপর প্রথমে বাবুকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার অবস্থার অবনতি দেখে রাত ১০টার দিকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় রাত ১২টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্বজনদের মতে, ঢামেকে পৌঁছানোর পর ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসা শুরুর আগে তার মৃত্যু ঘটে। বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী আবারও বলেন, “আমার ছেলেকে ৮-৯ জন মিলে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, হাত-পা ভেঙে দিয়েছে।”
বাবু পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন এবং তিনি এইচএসসি পাস করেছিলেন। বাবুর চাচা খোরশেদ রাঢ়ী বলেন, “নিজের জমিতে দোকানঘর তুলতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। এক মাস আগে বাবুকে মারধর করা হয়েছিল। এবার তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বাবু রাঢ়ীকে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি নীরব ব্যাপারী বলেন, “বাবু আমাদের সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তাকে কোনো পদে অধিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। আমরা জানতে চাই, তাকে কারা এবং কীভাবে হত্যা করেছে। পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বের হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন দীপেন বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই। আমরা জেনেছি, জমি নিয়ে স্থানীয় দ্বন্দ্বের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।”
হত্যাকাণ্ডের কারণে সাদেকপুরসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীদের মতে, বাবু রাঢ়ী ছিলেন শান্ত স্বভাবের এবং সবার সঙ্গে সদ্ভাবে চলতেন। সামান্য বিরোধের জেরে একজন তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা একটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। তারা দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন