প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মিয়ানমারের তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তদন্তে নেমে ওই তিন ব্যক্তির ফতেহাবাদ ইউনিয়নে স্থায়ী বসবাসের তথ্য না পাওয়ায় সাবেক ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তিনজনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের পারিবারিক শিকড় কক্সবাজারে অবস্থিত।
জানা যায়, উপজেলা ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মিয়ানমারের তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের সূত্র ধরে অভিযোগটি আরও জোরালো হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধনের খবর প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন তদন্তে নামলে ওই তিন ব্যক্তির ফতেহাবাদ ইউনিয়নে বসবাসের তথ্য না পাওয়ায় সাবেক ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
জন্মসনদে উল্লেখিত তিন ব্যক্তি হলেন- মুবিনা খাতুন, হাফিছা এবং সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ। অন্য একটি অভিযোগে জন্ম নিবন্ধন পাওয়া আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম, জুনাইরা আফরিন আঁখি, নূর মামিন, মাজেদকে রোহিঙ্গা দাবি করা হলেও অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তারা কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে দাবি করেন তাদের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা কেউই মিয়ানমারের নাগরিক নন বলে জানান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হওয়া গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সত্যতাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাছাড়া জন্মসনদের বিষয়ে জেলাপ্রশাসক বরাবর অভিযোগকারী শফিউল আলমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সরেজমিন গেলে মুবিনা খাতুনের মা নুরজাহান বেগম সাংবাদিকদের বলেন, "আমার সাবেক স্বামী আবুল কাশেম অনেক বছর আগে মারা গেছেন। আমার মেয়ে মুবিনা খাতুনও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমরা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নই। আমাদের জন্ম কক্সবাজার সদরে। আমার বাবা-ভাই সবাই এ দেশের নাগরিক। আমার মেয়েও জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।"
জন্মনিবন্ধন পাওয়া সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার ছেলে আবুধাবিতে থাকে। জরুরি প্রয়োজনে ডিজিটাল জন্মসনদ প্রয়োজন হওয়ায় সে পরিচিত একজনের মাধ্যমে জন্মসনদ তৈরি করে। আমরা মিয়ানমারের নাগরিক নই। আমাদের পূর্বপুরুষ জন্মসূত্রে মহেশখালীতে বসবাস; আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।"
কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন কাজল বলেন, "হাফিছা, আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম, জুনাইরা আফরিন আঁখি আমার প্রতিবেশী। ওরা আমার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। চেয়ারম্যান না থাকায় এলাকায় সাধারণ নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকা থেকে নাগরিক সনদ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধান করছেন।"
ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "ডিজিটাল সেন্টারের সাবেক উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান রাজিব আমাকে জিম্মি করে জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে কাজ করিয়ে নিত। আমি ছুটিতে থাকাকালীন রাজির নাগরিকদের সমস্যার কথা বলে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্মসনদ দেয়, যা পরবর্তীতে আমি জানতে পারি। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই এবং আইন অনুযায়ী তার শাস্তির দাবি করি।"
সবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল বলেন, "২০২৪ সালের আগস্টে আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাই ২০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে। অথচ আলোচিত জন্মনিবন্ধনগুলো তৈরি হয়েছে ৪ জানুয়ারি ২০২৫। অর্থাৎ আমি ইউজার এক্সেস পাওয়ার আগেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে। কারা, কিভাবে এবং কোন আইডি ব্যবহার করে এসব জন্মনিবন্ধন করেছে, তা আমার জানা নেই।"
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, "ইস্যু করা জন্মনিবন্ধ সনদ কোনো রোহিঙ্গাকে দেওয়া হয়েছে কিনা তা তদন্ত চলছে, তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন