প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইরানের বিমান চলাচল খাতে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার ফলে বুধবার ইরানি এয়ারলাইনগুলো কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে, যা ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার একটি অংশ।
একটি ট্রাভেল এজেন্ট এএফপিকে জানায়, বাগদাদ, মাসকাট, কাতার, জর্জিয়া ও আজারবাইজানের ফ্লাইটগুলো স্থগিত করা হয়েছে। তবে চীনসহ কিছু গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার নতুন পদক্ষেপগুলোর ঘোষণা দেন, যা ইরানকে কাবু করার প্রচেষ্টার একটি অংশ। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
নতুন পদক্ষেপের পূর্ণ প্রভাব এবং অন্যান্য দেশ কতটা তা মেনে চলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বুধবার নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও ফ্লাইটরাডার২৪-এর উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম বৃহৎ বিমান পরিবহন সংস্থা মাহান এয়ার পরিচালিত তেহরান থেকে একটি ফ্লাইট চীনের গুয়াংজুতে অবতরণ করেছে।
চীন মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে এবং এগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটও বুধবার ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, তেহরানের ওই ট্রাভেল এজেন্ট এএফপিকে জানান, ইস্তাম্বুলগামী কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচি ছিল, যদিও অন্য কয়েকটি বাতিল করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এজেন্ট বলেন, ‘পরিস্থিতি অস্থিতিশীল এবং বাতিলের আশঙ্কায় আমরা আপাতত টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছি।’
কাবুল থেকে মাহান এয়ারের একটি ফ্লাইটও দুপুরের দিকে তেহরানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ছোট ইরানি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ায়ও কিছু ফ্লাইট চলাচল সম্ভব ছিল। এসব এয়ারলাইনের মধ্যে ভরেশও রয়েছে।
ইরাকের নাজাফ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইগামী ফ্লাইটের সময়সূচিও ছিল। সোমবার বেসেন্ট ইরানের বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে ‘বন্ধ করে দেওয়ার’ এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা যে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
তিনি অন্যান্য দেশকে সতর্ক করে বলেন, ‘তারা অবতরণ করলে আপনারা তাদের জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবেন না, অবতরণসেবা দিতে পারবেন না, তাদের কাছে টিকিট বিক্রি করতে পারবেন না। তা করলে আপনাদের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হবে।’
নতুন বিধিনিষেধের ফলে ইরানিদের বিদেশ ভ্রমণ এবং নিজ দেশে ফিরে আসার সক্ষমতা আরও জটিল হয়ে পড়বে।
ইরানের গণমাধ্যমগুলোও ফ্লাইট বাতিলের খবর দিয়েছে। তাসনিম বার্তা সংস্থা মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, বাগদাদ ও মাসকাটের বিমানবন্দরগুলো ‘আর ইরানের ফ্লাইট গ্রহণ করবে না’।
তাসনিম জানায়, ‘ইস্তাম্বুলসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং বর্তমানে এসব ফ্লাইটে কোনো সমস্যা নেই।’
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলো নাজাফে পুনর্নির্দেশ করার বিষয়ে আলোচনা করছে। নাজাফ ইরানি তীর্থযাত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
ইরাকে সরকার প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা না করলেও একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাসহ কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বাগদাদ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মেনে চলবে।
দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনায় ইরাকের কিছু ট্রাভেল এজেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থানের শহর নাজাফে ট্রাভেল এজেন্ট হায়দার শামা বলেন, ‘শহরের অধিকাংশ ভ্রমণ কোম্পানি ইরানের বিমানবন্দরগামী ফ্লাইটের টিকিট বুকিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।’
বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি জানায়, উদ্বিগ্ন গ্রাহকেরা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য জানতে ফোন করছেন এবং স্থলপথে যাতায়াতের কথা ভাবছেন। এতে ভ্রমণে অনেক বেশি সময় লাগবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন