প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো। পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রার্থী ব্যারিস্টার ইফতিখার গিলানি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পাকিস্তান-শাসিত এই অঞ্চলের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মুজাফফরাবাদে আজাদ কাশ্মীর আইনসভার অধিবেশনে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হয়। সেখানে গিলানি ৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থী সরদার মুখতার খান ১৪ ভোট পান।
স্পিকার চৌধুরী তারিক ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ভোটের সময় উভয় প্রার্থী আইনসভায় উপস্থিত ছিলেন। ভোট শুরুর পূর্বে তারা একে অপরকে করমর্দন করেন। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। অধিবেশনে পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার সভাপতি শাহ গুলাম কাদির উপস্থিত ছিলেন না, তবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গিলানি মন্তব্য করেন, তার সরকার দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি এমন আজাদ কাশ্মীর গড়ে তুলতে চায়, যা বিশ্বের সামনে একটি উদাহরণ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব।’
আজাদ কাশ্মীরে সুশাসনের অভাবের কথা উল্লেখ করে গিলানি জানান, তার সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। তিনি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন, বিশেষ করে হাসপাতালগুলোর সেবার মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
গিলানি বলেন, তার সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি তার সরকারকে ‘জনগণের সরকার’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কাশ্মীরের জনগণের জন্য একটি নতুন যুগ শুরু হতে যাচ্ছে। তার সরকারের মেয়াদে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মচারীরা পরিবর্তনের সুফল দেখতে পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ইফতিখার গিলানি আজাদ কাশ্মীরে পিএমএল-এনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন। তিনি মুজাফফরাবাদের একটি পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আইন পেশা, শিক্ষা এবং সংসদীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইসলামাবাদে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান গিলানি। সেখানে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে পাকিস্তানে ফিরে ইসলামাবাদে আইন পেশায় যুক্ত হন।
তথ্যসূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন