প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে। বুলেটের স্ত্রী উর্মি হীরা জানিয়েছেন, স্বামীকে হারিয়ে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সরকারি সহায়তা ও চাকরির আশ্বাস পেলেও তিনি এখনো কিছুই পাননি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান বিকেলে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন মো. সোহাগ (৩৪), ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) ও মো. সুজন (৩২)। বর্তমানে তারা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, জনি, জুয়েল ও সুজনের স্থায়ী ঠিকানা শনাক্ত করা যায়নি, তাই অভিযোগপত্রে তাদের ‘ভাসমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুলেট বৈরাগী (৩৫) কুমিল্লার বিবির বাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি স্ত্রী, শিশুসন্তান ও মা-বাবাকে নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
মঙ্গলবার রাতে উর্মি হীরা বলেন, "বুলেটের উপার্জনেই আমাদের সংসার চলত। এখন প্রতি মাসে বাসাভাড়া বাবদ ২০ হাজার টাকা দিতে গিয়ে আমাকে কষ্ট করতে হচ্ছে। চাকরির আশ্বাস দেয়া হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কাস্টমস বিভাগ থেকেও তারা প্রাপ্য সরকারি অর্থ পাননি।" তিনি স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার এবং নিজের চাকরির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৪ এপ্রিল রাতে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন বুলেট। গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ঝাগুরজুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তিনি।
পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে সদর দক্ষিণ উপজেলার বাতাবাড়িয়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের কাছে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা-পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বুলেটের মা লিলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেন। পরে র্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি মো. সামসুল আলম শাহ জানান, গ্রেফতার পাঁচ আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেন, "টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে যাত্রীবেশে ছিনতাইকারীরা বুলেটের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় তাকে অটোরিকশা থেকে ফেলে দেয়া হয়। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে বুলেটের মৃত্যু হয়।"
কুমিল্লার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান জানান, আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারের জন্য মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন