প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত বাংলাদেশিদের জন্য আবার পর্যটন ভিসা চালু করছে। দীর্ঘ দুই বছর পর এই সুখবর আসতেই স্বস্তির হাওয়া বইছে কলকাতার নিউমার্কেট ও পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকায়। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে এই ভিসা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। এর ফলে ওখানকার হোটেল, পোশাক এবং ওষুধের ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার এই ঘোষণা দেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে হাজারো ব্যবসায়ীর মনে।
নতুন করে সতেজ বাতাস বইতে শুরু করেছে কলকাতার নিউমার্কেট চত্বরে। হোটেল ব্যবসায়ী, পোশাক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, মোবাইলের সিম বিক্রেতা, এমনকি হাতে টানা রিকশাচালক, ফলের দোকানদার সকলেই আশাবাদী সরকারের এই সিদ্ধান্তে। তারা আশা করছে, নিউমার্কেট আবার তার প্রাণ ফিরে পাবে।
মারকুইস স্ট্রিটের সংযোগস্থল চার মাথার মোড়ে গত ৩০ বছর ধরে ফল বিক্রি করে আসছেন মুহাম্মদ আসলাম। একসময় তার দোকানে ভিড় লেগেই থাকতো। শুক্রবার তিনি জানান, ‘এখন ব্যবসা খুব খারাপ আছে। শেখ হাসিনা সরকার চলে যাবার পর থেকেই ব্যবসায় মন্দা চলছে। বাংলাদেশিরা এলে একটু ভালো হবে।’
নিউমার্কেটের ‘কটন গ্যালারি’র কর্ণধার কামরুদ্দিন মালিক জানিয়েছেন, ‘গত প্রায় দুই বছরের নিউ মার্কেটের ব্যবসা ৬০ শতাংশ কমে গেছে। আমরা আশা করছি, ভারতের এই সিদ্ধান্তে নিউ মার্কেট আবার তার প্রাণ ফিরে পাবে। বাংলাদেশিরা আমাদের কাছে মেহমান, তাদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তাই আমরা এই চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছি। আমরা চাই তারা নিশ্চিন্তে কলকাতায় আসুক।’
নিউমার্কেটের ‘গ্লোব ফার্মেসি’ দোকানের কর্মী কুসুম জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশি কাস্টমারদের ওপর আমাদের ব্যবসা নির্ভর করে। তারা মূলত ঔষধ, কসমেটিক্স ও ড্রাই ফ্রুটস-এর জন্য আমাদের দোকানে আসে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেটা বন্ধ ছিল। অনেক দিন ধরেই শুনছি ভিসা স্বাভাবিক হবে, কিন্তু অবশেষে সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা খুশি।’
মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মনোতোষ সাহা জানিয়েছেন, ‘বিগত দুই বছর ধরে আমরা অনেক অসহায় অবস্থায় ছিলাম। সেই অবস্থা কাটতে চলেছে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে আমরা সবাইকে আহ্বান জানাব, বাংলাদেশি পর্যটকদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আমরা যাতে আগের অবস্থানে পৌঁছাতে পারি।’
কলকাতার বিশিষ্ট দন্ত চিকিৎসক সুমিত কুমার সাহা বলেছেন, ‘খুবই ভালো সিদ্ধান্ত সরকার। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে, বাণিজ্য বিশেষ করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে পর্যটন ক্ষেত্রে অনেক শক্তিশালী হবে।’
শুধু নিউ মার্কেট নয়, গত কয়েক মাস ধরে একই চিত্র দেখা গেছে ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোলেও। পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়েই ভারতে প্রবেশ করেন অধিকাংশ বাংলাদেশি পর্যটক। এরপর সড়কপথে তারা পৌঁছান কলকাতা শহরে। ফলে তাদের ওপর নির্ভর করেই পেট্রাপোলে পরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সি ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলো গড়ে উঠেছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার কর্মী যুক্ত আছেন।
ফলে আগামী ২৮ জুন থেকে পর্যটন ভিসা চালু হওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত পেট্রাপোল সীমান্তের ব্যবসায়ীরাও।
এই বন্দরের ফরওয়ার্ডিং অ্যান্ড ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের পরে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকরা এখানে আসবেন, তা নয়, আমাদের ব্যবসার পরিমাণও বাড়বে। কারণ গত কয়েক মাস ধরে ব্যবসায়ীরা দোটানায় ছিলেন। সেই অবস্থা থেকেও তারা মুক্তি পাবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন