প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভিসা না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ শিক্ষার্থীর আট কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার মূল হোতা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, যিনি মো. মতিউর রহমান নামেও পরিচিত, এবং তার সঙ্গে আরও তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা শহরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই শুনানি শেষে আদেশ দেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা এই সকল আসামিদের নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে উপস্থিত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এই আসামিদের উপর হামলা চালান। রিমান্ডে যাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাবেয়া খাতুন তানিয়া, সাইদুর রহমান এবং মো. তানজির ইসলাম। তানজিরের জন্য চার দিনের এবং বাকি তিন আসামির জন্য পাঁচ দিনের রিমানন্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
পুলিশের হেফাজত থেকে বের করে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, যিনি ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. বিল্লাল ভূইয়া, আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় আসামিদের আদালতে আনা হয় এবং এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশ্যে গালাগাল করতে থাকেন।
আদালতের বারান্দায় আসামিদের নিলে কয়েকজন হামলার চেষ্টা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এরপর পুলিশ প্রহরায় আসামিদের হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলে হামলা চালান। তখন পকেট গেট দিয়ে তাদের হাজতখানার ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এর আগে তারা হাজতখানার প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। অনেকেই লাথি মেরে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর, বাদীপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন মোল্লাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শান্ত করেন।
মামলার বিবরণে দেখা যায়, ভিসা গাইড কম্পানি স্টুডেন্ট ভিসা দ্বারা চার মাসের মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরে জাস্ট থট এডুকেশন কনসালট্যান্ট কম্পানি বিভিন্ন সময়ে ৯১ শিক্ষার্থী থেকে আট কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের পর নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও বিদেশে পাঠানো হয়নি।
এমনকি, বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে এরূপ আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে তাদের স্টুডেন্ট ও ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিং হবে। কিন্তু পরবর্তীতে বিদেশে পাঠানোর পরিবর্তে তারা টাকা আত্মসাৎ করে। এরপর, ৮ জুলাই ভুক্তভোগী আল আমিন বাদী হয়ে মামলা করেন, যাতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন