প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যয়ের জন্য দায় এড়াতে চীন। কাঠমাণ্ডু ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল দেখা দিয়েছে।
নেপাল বর্তমানে ভয়াবহ বন্যার কবলে রয়েছে, যেখানে মৃতের সংখ্যা ৩৩২ জনে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে দেশটির পুলিশ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পরিস্থিতিতে চীন নেপালের বিপর্যয়ের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বেইজিং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই। ফলে, কি চীন-কাঠমাণ্ডুর সম্পর্কের মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে? এই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
বুধবার ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর নেপাল চীনের দিকে আঙুল তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা অভিযোগ করে, চীনের একটি বাঁধ ভেঙে পড়ার কারণে এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিপদের সংকেত বুঝেও কাঠমাণ্ডুকে সতর্ক করেনি বেইজিং।
নেপালের সকল দাবি চীন নাকচ করে দিয়েছে।
এছাড়া, এ ধরনের খবরকে ‘ভুয়া’ বলেও অভিহিত করেছে প্রতিবেশী দেশটি।
নেপালের চীনা দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়াতে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বিপর্যয়ের সূচনা ঘটে নেপালের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালে ভূমিকম্প অথবা হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। এর ফলে কাদা ধস সৃষ্টি হয়। এই কারণেই গিরং-রাসুয়াগাধি সীমান্ত অঞ্চলে নেপাল ও চীনে প্রাণহানি এবং নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।
বেইজিং জানায়, দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই। সহযোগিতাই জীবন বাঁচায়।
এদিকে, ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে জানায়, বুধবার ভোরে কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার উত্তরে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। তবে পরে তারা তাদের মূল্যায়ন সংশোধন করে জানায়, এই কম্পন ভূমিকম্পের কারণে হয়নি। এটি হিমবাহ ধসের ফলস্বরূপ। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫.২।
সংস্থাটি জানায়, নিকটবর্তী ভূ-কম্পন পরিমাপক কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য, ভূ-কম্পন তরঙ্গ এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, হিমবাহ ধসের ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর নিচের দিকে নেমে আসে এবং আকস্মিক জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। এর ফলে উপত্যকার নিচের জনবসতিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরাও এই বন্যার পেছনে হিমবাহ ধসকেই দায়ী করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন