প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানোর জন্য প্রশাসনিক আদেশ অনুমোদন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান করানোর ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না। এছাড়া, যোগদানের পরপরই তাদের পদায়ন নিয়ে শঙ্কাও দূর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের দুই কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভেটিংয়ে পে স্কেল নিয়ে নতুন তথ্য এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানিয়েছেন যে, ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের যোগদানপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর জন্য প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার এতে স্বাক্ষর করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ অধিদপ্তরে আসলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে যোগদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে অধিদপ্তরের। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আশা করা হচ্ছে, ১ অক্টোবরের মধ্যে সব সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক যোগদানপত্র হাতে পাবেন। এরপর তাদের পদায়ন করা হবে।
প্রশিক্ষণের আগে ক্লাসে নয়
যোগদানের পর সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে। তবে পদায়ন পেলেও তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ক্লাসে অংশ নেবেন না। যোগদানের পর নতুন এসব সহকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণে যাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের আগে নতুন শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, "প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত।" দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন। তার আগে তাঁদের ক্লাসে পাঠানো হবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা কিছুটা তড়িঘড়ি নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এ নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও বিভিন্ন ব্রিফিং ও অনুষ্ঠানে এ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও তাড়াহুড়া নিয়ে বক্তব্য দেন।
পরে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদানের শর্ত হিসেবে প্রশিক্ষণে পাস করার বিষয়টি মন্ত্রী জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করা নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, "প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে কারো নিয়োগ বাতিল হবে বলে তিনি মনে করেন না।" তবে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত করা হবে কি না, তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায়, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া, একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন