প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হার্ট বা হৃৎপিণ্ড মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা অবিরাম কাজ করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব পালন করে। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে হৃদরোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, সঠিক ও সুষম খাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সহজেই আমাদের হার্টকে শক্তিশালী ও রোগমুক্ত রাখতে পারি। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ হার্টের জন্য খাদ্য তালিকায় সঠিক পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশিকা অনুসারে, চলুন জেনে নিই কী খেলে হার্ট ভালো থাকবে—
১. আঁশযুক্ত খাবার
আঁশযুক্ত খাবার রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) জমতে দেয় না এবং রক্তনালীকে পরিষ্কার রাখে। সাদা চাল বা ময়দার পরিবর্তে লাল চালের ভাত, ওটস (Oatmeal), লাল আটার রুটি, বার্লি ও কুইনোয়া খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এগুলো ধমনীর কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে সহায়তা করে। পালংশাক, পাতাকপি ও মেথি শাকে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট রয়েছে। নাইট্রেট রক্তনালীকে প্রসারিত ও শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
২. অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও ইনফ্লামেশনের (প্রদাহ) কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তবে টমেটো ও রঙিন ফল এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। টমেটোতে লাইকোপেন নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে সক্ষম। আপেল, কমলা, পেয়ারা, জাম্বুরার পাশাপাশি স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরি হার্টের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সহায়ক। এছাড়া রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামক উপাদানটি ধমনীতে প্লাক বা চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং উচ্চ রক্তচাপ কমায়।
৩. ওমেগা ৩ ও প্রোটিন
ইলিশ, রুই, কাতল, কিংবা সামুদ্রিক স্যামন, সার্ডিন বা ম্যাকেরেল মাছ সপ্তাহে অন্তত ২ দিন খাওয়া উচিত। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ট্রাইগ্লিসারাইড (রক্তের চর্বি) কমাতে সহায়তা করে। মাংসের পরিমাণ কমিয়ে খাদ্যতালিকায় ডাল, ছোলা, রাজমা (কিডনি বিনস) এবং শিমের বিচি অন্তর্ভুক্ত করুন। এগুলো কোলেস্টেরলমুক্ত প্রোটিনের সেরা উৎস।
৪.স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
সব ফ্যাট হার্টের জন্য খারাপ নয়। আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হার্টের জন্য উপকারী। প্রতিদিন এক মুঠো কাঠবাদাম (Almonds), আখরোট (Walnuts), চিয়া সিড বা তিসির বীজ খেলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। রান্নায় ডালডা, পাম অয়েল বা অতিরিক্ত সরষের তেলের পরিবর্তে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বা রাইস ব্র্যান অয়েল সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত।
যা খাবেন না
দৈনিক লবণ খাওয়ার পরিমাণ ২০০০ মিলিগ্রাম (১ চা চামচ) এর নিচে রাখতে হবে। প্যাকেটজাত খাবার, চিপস ও আচার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। কোমল পানীয়, মিষ্টি, কেক-পেস্ট্রি ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এসব খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন