প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষা সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে মোদি সরকার। বুধবার (২২ জুলাই) আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে সরকার চারটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, ককরোচ জনতা পার্টি এবং ছাত্র আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার যেকোনো সময়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। বুধবার বিকেল থেকেই তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সরকার চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের সকল তরুণ বন্ধুদের প্রতি এটি একটি স্থায়ী আমন্ত্রণ। সরকার আন্দোলনকারীদের সুবিধামতো যেকোনো সময়ে সব বিষয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত।"
মন্ত্রী আরও বলেন, এই আলোচনায় সরকারের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও যোগ দেবেন। আলোচনা নাড্ডার কার্যালয়ে অথবা বাসভবনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সরকার এখানে কোনো প্রতিপত্তির কথা বলছে না। আলোচনা করতে ধীরে ধীরে আমরা একটি সমাধানের দিকে এগোব। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের নেয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোই এটি একটি অংশ।
এদিকে, বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, পুলিশ বৃহস্পতিবার তাদের জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা তার বাসভবনে তাদের সাথে আলোচনা করতে চান। তবে তারা কারও বাড়ি বা অফিসে যেতে অস্বীকার করেছেন। সৌরভ দাস বলেন, "গণদরবার এখানেই। মন্ত্রীদের জনগণের মাঝে আসা উচিত। যদি তারা কথা বলতে চান, তাহলে সেই আলোচনা যন্তর মন্তরে হওয়া উচিত।"
প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গোটা ভারত উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। দিল্লির বিক্ষোভ পাঞ্জাব, বিহার, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তায় নেমে এসেছে লাখো শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বিজেপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে প্রবেশ করে সহিংসতার অভিযোগও করেছেন।
এদিন পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেছে বিরোধীরা। চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন। তিনি লেখেন, "যারা প্রশ্ন ফাঁস করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।" প্রধানমন্ত্রীর এই দায়সারা বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দৃঢ়ভাবে বক্তব্য রেখেছেন যে, তরুণদের ভবিষ্যত নষ্টের জন্য মোদিকেই দায়ী করে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কাছে তাকে আবারও ক্ষমা চাইতে হবে।
এদিকে, টানা ২৫ দিন ধরে অনুষ্ঠিত অনশনে গুরুতর অসুস্থ পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট আশ্বাস পেলে তিনি অনশন ভাঙবেন।
শিক্ষার্থীদের এই অরাজনৈতিক আন্দোলন ভারতজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বলিউড তারকা সালমান খান, নাসিরুদ্দিন শাহসহ বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাহসী ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। অনেকে যন্ত্র মন্তরে গিয়ে তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন