প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংস্কারের পর, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঢালে তরতর করে বেড়ে উঠছে লাউডগা। মাচার নিচে দুলছে শত শত লাউ। মাচা যেন দিগন্ত ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ মাচার শেষ প্রান্ত দেখা যাচ্ছে না। চরের বালুমাটিতে সবুজের সমারোহ সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে।এমন একটি দৃশ্য এখন ধরলার চরে দেখা যাচ্ছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার খোঁচাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় দু কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের ঢালে এই অভিনব চাষ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। বাঁধের মাটির ক্ষয়রোধ ও অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন চরবাসী ও কৃষিবিভাগ।স্থানীয়দের মতে, ২০১৭ সালের বন্যায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে যায়। গত বছর ভাঙা অংশ মেরামত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি সংস্কার করেছে। এরপর থেকেই বাঁধের ঢালে চাষাবাদ শুরু করেছেন স্থানীয়রা।বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢালের কোথাও লাউ, কোথাও বাঁশ; কোথাও কলাগাছ কিংবা অন্যান্য সবজি রয়েছে। এতে বৃষ্টিতে ভাঙনের হাত থেকে বাঁধের ঢাল রক্ষা পাচ্ছে এবং চরবাসী লাভবান হচ্ছে। কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষ করছেন।বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করছেন এমন কয়েকজনের দেখা মেলে সরেজমিন গিয়ে। জিয়াউল হক জিয়া, আব্দুল হাকিম ও আলতাফ হোসেন তাদের মধ্যে রয়েছেন। হলোখানা ও রাঙামাটি গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের দুই পাশের ঢালে তারা যৌথভাবে মাচায় লাউ চাষ করেছেন।জিয়াউল হক জানান, গতবছর সীমিত পরিসরে বাঁধের ঢালে লাউচাষ করেন। সাফল্য দেখে উৎসাহিত হয়ে এবছর বড় পরিসরে চাষ করছেন। এক মাস আগে গর্তে গোবর দিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউচারা রোপণ করেছেন। এরপর জিআই তার ও বাঁশ দিয়ে দীর্ঘ মাচা তৈরি করেছেন। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করে স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।সরেজমিন দেখা যায়, পানি সেচের জন্য নলকূপ স্থাপনে ব্যস্ত তারা। স্থানীয়রা জানান, চরে তাপপ্রবাহ বেশি। তার ওপর এবছর অনাবৃষ্টির দাপট রয়েছে। খরার কারণে সেচ দিতে হচ্ছে বেশি। পাশের বিল থেকে নিয়মিত সেচ দেওয়ায় অনাবৃষ্টি ক্ষতি করতে পারেনি চারার। গর্তে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের রাসায়নিক সার। পরিচর্যা তো চলছেই।মাচায় দুলতে থাকা শত শত লাউ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। ইতিমধ্যে কিছু লাউ বাজারে বিক্রি করেছেন। প্রতিটি লাউ ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এবছর তারা লাউ ও লাউ শাক বিক্রি করে তিন লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখছেন। আবাদে খরচ পড়বে এক লাখ টাকা।ঢালের মাচা থেকে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও বড়বাড়িতে পিকআপ বোঝাই করে আড়তে নেওয়া হচ্ছে লাউ। সেখানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় হাজার খানেক লাউ, প্রতিটির দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা।জিয়াউলদের পাশেই রাঙামাটি গ্রামের আশরাফুল, মফিজুল ও সোহাগের লাউয়ের মাচা রয়েছে। প্রায় আধা কিলোমিটার অংশজুড়ে তাদের মাচার বিস্তৃতি। তারা সবাই ক্ষুদ্র কৃষক। লাউ চাষের পর তারা স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।পশ্চিমে হলোখানা গ্রামের আকবর আলী সিরাজুল ইসলাম লাউয়ের পাশাপাশি কলা, বাঁশ ও করলাসহ নানা সবজি চাষ করেছেন।এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, বাঁধের ঢালে সবজির ব্যাপক চাষ কৃষকদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমিহীনরাও চাষের জন্য জমির ঠিকানা পেয়েছে।সারডোব গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক জানান, গত বছর থেকে বাঁধের ঢালে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এবছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়েকজন লাউসহ সবজি চাষ করেছেন। সাফল্য দেখে অনেকেই এই অপ্রচলিত চাষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তারা লাভবান হননি, এলাকায় সবজির চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থান হয়েছে।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক জানান, বাঁধের সুরক্ষার জন্য এধরনের চাষবাস বেশ উপকারী। তাই তারা চাষে বাঁধা দেননি। এর মাধ্যমে বাড়তি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছে কৃষক।কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বাঁধ ও সড়কের ঢালে সবজি চাষের দিকে ইদানিং অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন কৃষকরা বাঁধের ঢালে চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে সব সময় কৃষকদের উৎসাহিত করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন