প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান সম্প্রতি তেহরানের কেন্দ্রে একটি নতুন ব্যানার উপস্থাপন করেছে, যেখানে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো একটি কফিনের উপরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সকল সদস্যের ছবি রয়েছে।
ব্যানারটির পটভূমিতে দেখা যাচ্ছে, হোয়াইট হাউসের আগুন জ্বলছে এবং এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি ট্রাম্পের পাঁচ সন্তান—ইভাঙ্কা, ডন জুনিয়র, এরিক, টিফানি ও ব্যারন ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ছবি দেখানো হয়েছে।
ব্যানারটিতে ফারসি ভাষায় ‘রক্তের বদলে রক্ত’ স্লোগানটি লেখা আছে এবং এটি দ্বিতীয়বারের মতো, যখন ইরান একটি বিলবোর্ডের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুমকি দিয়েছে।
ইরান এর আগেও তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এঙ্গেলাব স্কোয়ারে আরেকটি বিলবোর্ড স্থাপন করেছিল, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একটি কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে জনপরিসর ব্যবহার করে আসছে। তবে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির বৃহত্তর দৃশ্যমান যোগাযোগ কৌশলের অংশ হিসেবে তেহরানের সবচেয়ে ব্যস্ততম এবং দৃশ্যমান কিছু অংশে বিপ্লবী চিত্র, যুদ্ধ স্মারক এবং আদর্শিক বার্তা সম্বলিত বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
বিলবোর্ডটিতে একটি খোলা কালো কফিন থেকে ট্রাম্পের দেহ উঁকি দিতে দেখা যাচ্ছে। ছবিতে তার চুল অগোছালো, চোখ ও মুখ বন্ধ এবং স্ফীত উদরের ওপর রাখা একটি লাল টাইয়ের ওপর তার দুটি হাত রয়েছে। কফিনের একেবারে শেষ প্রান্তে তার পা দুটি সোজা ওপরের দিকে নির্দেশ করছে।
তেহরানের ভ্যালিয়াসর স্কয়ারের বিশাল ম্যুরালগুলো ডিজাইন করেছে ওজ আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া অর্গানাইজেশন, যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।
গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ঘোষণা করেছেন যে, তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ ‘অবশ্যই নেয়া হবে’ এবং অপরাধীরা ‘শান্তিতে নিজেদের বিছানায়’ মরবে না।
সম্প্রতি, সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর ইরানের নেতারা এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বারবার প্রতিশোধ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
তিনি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, ‘এই প্রতিশোধ আমাদের জাতির দাবি, এবং তা অবশ্যই নেয়া হবে। এই অপরাধীরা—যাদের নাম উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই জানে—শান্তিতে নিজেদের বিছানায় মরার অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়ে কবরে যাবে। তাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে, এটি আমার ব্যক্তিগত উপস্থিতি বা অন্য কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতির উপর নির্ভর করে না।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত সপ্তাহে বলেছেন যে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র যদি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়, তবে তিনি কর্মকর্তাদের ইরানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ‘তালিকায়’ রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই তাদের তালিকায় আছি। আমরা এই বিষয়টি নিয়েই কাজ করছি... একমাত্র বিষয় হলো, আমি নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, যদি কিছু ঘটে, তবে আক্ষরিক অর্থেই তাদের ওপর এমন মাত্রায় বোমাবর্ষণ করতে হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন