প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সারা দেশের মতো কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তবে এই বছর বোর্ডের অধীনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মাধ্যমে বোর্ডের আওতাধীন কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু করেছে। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৫ হাজার ৬৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৭০৫ জন এবং ছাত্রী ৫৭ হাজার ৩৬৩ জন। সে হিসেবে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৫৮ জন বেশি।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ লাখ ২২ হাজার ৪১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন এবং ফরম পূরণ করেছে, তবে শেষ পর্যন্ত ৯৫ হাজার ৬৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বিভিন্ন কারণে পরীক্ষার আগেই ২৭ হাজার ৩৪৩ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।
বিপুলসংখ্যক ঝরে পড়া শিক্ষার্থী শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক সমস্যা, অল্প বয়সে বিয়ে, কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং পরীক্ষার উপযুক্ত প্রস্তুতির অভাবসহ বিভিন্ন কারণ এই ঝরে পড়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্র পরিচালনা, পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক তদারকিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, ‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিসহ প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে আইপিএসের ব্যবস্থা রাখা এবং ডিজিটাল মনিটরিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও বিকল্প প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে পরীক্ষার সময় যানজট এড়াতে জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন