প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এবারকার বাজেটের প্রেক্ষাপট অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন।
তিনি শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে জাতীয় বাজেট তৈরি করার জন্য প্রায় ছয় মাসের সময় পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে বাজেট প্রস্তুত করতে মাত্র দেড় থেকে দুই মাস সময় লেগেছে। এই সময়ের ভেতর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেয়া হয়েছে এবং তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশাকে বাজেটে প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সীমিত সম্পদের বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা এবং উন্নয়নের মূল ধারার বাইরে থাকা মানুষদের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো বাজেট থেকে বঞ্চিত হয়ে এসেছে। জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশের মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকার পেয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা এখন অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণে লক্ষ্য রেখে সরকার বাজেট প্রস্তুত করেছে।
তিনি আরো বললেন, বাজেট প্রণয়নের সময় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে কোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্ম বা গোষ্ঠীকে বাজেটের বাইরে রাখা হয়নি। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবার জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কর্মসূচি এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ রাখা হয়েছে।
সরকারের অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত দেড় দশকে দেশের সম্পদ লুটপাট হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সম্পদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট তৈরি করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি ছিল কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী-কেন্দ্রিক। পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক সেই অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা এতদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে ছিলেন, তাদের মূলধারার মধ্যে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার বিষয়টিও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বিশ্ব ক্রমেই সুরক্ষাবাদী ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাত বর্তমানে নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং অন্যান্য কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তা হলো— অর্থের যথাযথ ব্যবহার (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাবর্তন (রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট), কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা।
তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি প্রকল্প ও ব্যয় এই চারটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো অপচয়ভিত্তিক অর্থনীতি না করে নীতি-নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন