প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনার পর ক্ষোভ ও অভিমানে ওই স্কুলছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক সোহেল (২৫) এবং তার সহযোগী ইজিবাইকচালক রফিকুল ইসলাম, যিনি বাঘা মন্টু নামেও পরিচিত (২৩), তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু ঘটে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকায়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, স্কুলে যাতায়াতের পথে সোহেল বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। এক পর্যায়ে তিনি ফুঁসলিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে, একইভাবে ওই ছাত্রীকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রফিকুল ইসলামের ইজিবাইকে তুলে নেন সোহেল।
পরে তাকে রাজমহল পূর্ববাগান এলাকার আবু সায়েদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সহযোগীদের সহায়তায় সোহেল তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে রাত ২টার দিকে তাকে মডেলহাটগামী একটি ইজিবাইকে তুলে দেওয়া হয়।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ইজিবাইকে একা পেয়ে অজ্ঞাতনামা চালক ও দুই যাত্রী ওই স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। একপর্যায়ে তিনি ইজিবাইক থেকে লাফিয়ে নেমে স্থানীয় এক ট্রলিচালকের সহায়তায় রক্ষা পান। পরে বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানালে তার ভাই গিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
পরদিন সকালে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই স্কুলছাত্রী বিষপান করেন বলে পরিবারের দাবি। পরে তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় সোহেলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন ওই স্কুলছাত্রীর বড় ভাই। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, বিষপানের পর ওই স্কুলছাত্রীকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকদের কাছে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি জানা যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের পাশাপাশি বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন