প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদেশি পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড ও অনুমোদিত অন্যান্য পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ বাংলাদেশি টাকায় ভাঙাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই সুযোগটি হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রদান করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-২ থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) জারি করা এক সার্কুলারে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এতে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিক্রির বিপরীতে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রিতে আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড এবং অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহারকে উৎসাহিত করার জন্য এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে এসব লেনদেনের বিপরীতে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে খোলা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখা যাবে।
এই সুযোগের আওতায় হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে সংরক্ষণের পরিমাণ মোট প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। অবশিষ্ট অর্থ বাংলাদেশি টাকায় ভাঙিয়ে নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে সংরক্ষিত অর্থ চলতি হিসাবের আওতাভুক্ত বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা সার্কুলারের প্রথম অংশের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) যথাযথভাবে কেটে সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থায় অর্থ গ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখেছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর।
এ ছাড়া গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (কেওয়াইসি), অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। এসব বিষয়ে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডে বিক্রির বিপরীতে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশের সীমা, অবশিষ্ট অর্থ টাকায় রূপান্তর, বৈধ লেনদেনে অর্থের ব্যবহার এবং কর, মূসক ও অর্থপাচার প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধান মেনে চলতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন