প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে ইরাকে সংসদ সদস্যসহ ৪৭ জন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
রবিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বাগদাদ থেকে এএফপি এই তথ্য প্রদান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সম্প্রতি ক্ষমতায় আসা ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দায়িত্ব নেওয়ার পরে দুটিই প্রধান অঙ্গীকার করেন। এগুলো হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
আগামী মাসে ওয়াশিংটন সফরের আগে এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে যে ‘দুর্নীতির অভিযোগে’ ৪৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্তত একটি তেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত আছেন।
রোববার ভোরে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের নেতৃত্বে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোন ও শহরের অপর একটি এলাকায় অভিযান চালায়।
গ্রিন জোনে এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, এবং সরকারি দপ্তর রয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রচুর রাজনীতিবিদও সেখানে বসবাস করেন।
স্থানীয় টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীকে ভারী সাঁজোয়া যানসহ গ্রিন জোনে অভিযান চালাতে দেখা যায়। কিছু ভিডিওতে তারা একটি কম্পাউন্ড এবং একটি বাড়ির ভিতর প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
বাগদাদে অবস্থানরত একজন কূটনীতিক এএফপিকে জানিয়েছেন, জাইদির দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ‘ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতির অংশ’ এবং এটি ব্যক্তিগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি বার্তা প্রদানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এই অভিযান এক্ষণে পরিচালিত হচ্ছে, যেহেতু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বাগদাদ সফর করছেন। তিনি আগের সরকারগুলোর মতো নতুন ইরাকি সরকারের সঙ্গে সব বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই মিত্রের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে যাচ্ছে ইরাক।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, অভিযানটি দুর্নীতিবিরোধী হলেও এটি ‘আরও বৃহৎ একটি অভিযানের’ অংশ। এর লক্ষ্য হচ্ছে ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন, ডলার ও ইরানি তেল পাচার’ দমন করা। যুক্তরাষ্ট্র এসব ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
‘এটি কেবল শুরু।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আজ যা ঘটেছে, এটি কেবল একটি সাধারণ সূচনা।’
সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময়ে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো তেহরানের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তারা ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে বাগদাদে মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর অতর্কিত হামলাও ছিল। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে তারা হামলা চালিয়েছে।
সম্প্রতি অন্তত দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র অন্য এক প্রার্থীকে ভেটো দেওয়ার পর ক্ষমতায় আসা জাইদি ইরাকে আরো বেশি মার্কিন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আগ্রহী। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময়ে তেলের রপ্তানি বন্ধ থাকার ফলে দেশটির অর্থনীতি বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে, যেটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজন এখন তীব্র।
আইএনএ জানিয়েছে, বাগদাদসহ দেশের অন্যান্য প্রদেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরাকের দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে যে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হচ্ছে।
এর আগে আইএনএ জানায়, গত মাসে গ্রেপ্তার হওয়া তেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আদনান আল-জুমাইলির দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এসব গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে জুমাইলির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের উপর অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন