প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নরওয়েকে পরাজিত করে উয়েফা নেশন্স লিগে জয় ধরে রেখেছে পর্তুগাল, যা গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্ভব হয়েছে। জোয়াও ফেলিক্সের গোলের পর আর্লিং হালান্ড সমতা ফেরালেও শেষ পর্যন্ত গনসালো রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে তারা।
রবিবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে অনুষ্ঠিত ‘এ’ লিগের চার নম্বর গ্রুপের ম্যাচটি জিতে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে জর্জে জেসুসের দল।
নরওয়ে ৬০ শতাংশের বেশি সময় পজেশন ধরে রেখে গোলের জন্য ২২টি শট নেয়, যার মধ্যে ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, পর্তুগাল ১২টি শটের মধ্যে চারটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
আগের ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয়লাভ করে আসর শুরু করা নরওয়ে এখন ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।
ক্রিশ্টিয়ানো রোনালদোকে বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজান পর্তুগাল কোচ, যিনি ৪১ বছর বয়সী তারকার জায়গায় গনসালো রামোসকে নামান। আগের ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে আরো তিনটি পরিবর্তন করেন জেসুস।
ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি নরওয়ে পায়। ত্রয়োদশ মিনিটে সতীর্থের পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেলেও যথেষ্ট জোরে শট নিতে পারেননি হালান্ড। কোনোমতে বল পা দিয়ে বাইরে পাঠান দিয়োগো কস্তা।
এর চার মিনিট পর পর্তুগিজরা এগিয়ে যায়। বাঁ থেকে পেদ্রো নেতোর পাস ডি-বক্সের মুখে প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে গোল করেন ফেলিক্স।
গত সপ্তাহে তার একমাত্র গোলেই ওয়েলসকে হারায় পর্তুগাল। জাতীয় দলের হয়ে আল নাস্র তারকার গোল হলো ১৪টি, ৫৯ ম্যাচে।
২৪তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পান হালান্ড। ছয় গজ বক্সের বাইরে বল পেয়ে শট নেন তিনি, দারুণ ক্ষিপ্রতায় পা বাড়িয়ে সেটা আটকে দেন ডিফেন্ডার হবেন দিয়াস। ১৫ মিনিট পর নরওয়ের রেকর্ড গোলদাতার হেড কর্নারের বিনিময়ে আটকান কস্তা।
প্রথমার্ধের ব্যর্থতা কাটিয়ে ৫১তম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান হালান্ড। মার্টিন ওদেগোরের ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে আটকালেও দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি কস্তা। ফিরতি বল ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে হেডে পাশে বাড়ান পাত্রিক বার্গ এবং আলতো শটে গোল করেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা।
গত ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন হালান্ড। জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ৬৫টি, ৫৭ ম্যাচে।
নরওয়ের স্বস্তি যদিও তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। আরিয়ান হশল নিলাদের অমার্জনীয় এক ভুলের সুযোগে পর্তুগালকে আবার এগিয়ে দেন রামোস।
ডি-বক্সের বাইরে থেকে সতীর্থকে দুর্বল পাস বাড়ান গোলরক্ষক নিলাদ এবং দ্রুত পা বাড়িয়ে বল ধরেই তার মাথার ওপর দিয়ে শট নেন রামোস। পেছন ফিরে প্রাণপণে ছুটে গেলেও বলের নাগাল পাননি নিলাদ।
জাতীয় দলের হয়ে ২৯ ম্যাচে ১২ গোল হলো রামোসের।
চার মিনিট পর আবারও গড়বড় করে ফেলেন নিলাদ, ডি-বক্সের বাইরে গিয়ে বল ক্লিয়ার করতে পারেননি তিনি, বরং বল কেড়ে নিয়ে কোনাকুনি শটে আবার জালে পাঠান রামোস। তবে নিলাদ ও তার দলের ভাগ্য ভালো; ভিএআর সময় নিয়ে যাচাই করে অফসাইডের সিদ্ধান্ত জানায়। অফসাইডে ছিলেন রামোস।
আরেকটি গোলের জন্য শেষ ২০ মিনিটে একের পর এক আক্রমণ করে নরওয়ে, কয়েকটি হাফ চান্সও পায় তারা; কিন্তু কাজের কাজ আর করতে পারেনি গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলা দলটি।
এ দিনই এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ক। নরওয়ের সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে আছে ডেনিশরা। আর ওয়েলসের পয়েন্ট শূন্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন