প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বার্সেলোনা যেন উড়ন্ত অবস্থায় ছিল। তারা টানা ৯ ম্যাচ জয়লাভ করে লা লিগার ইতিহাসের সর্বকালের রেকর্ডও স্পর্শ করেছে। এরপর তাদের সামনে এসে দাঁড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। এই রিয়াল, যারা এল ক্লাসিকোর ঠিক আগে কিছুটা দেরিতে হলেও নিজেদের ফর্ম ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছিল। সেই রিয়ালই বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল। কিলিয়ান এমবাপ্পে করেছেন জোড়া গোল। রিয়াল বার্সাকে ২-১ গোলের হার উপহার দিয়েছে।
তবে স্কোরলাইনটি যেন ম্যাচের আসল চিত্রটি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছে না। বার্সেলোনার মাঠে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সফরকারী রিয়ালই দাপট দেখিয়েছে। দুটো গোলের কোনোটিই ম্যাচের ধারার বিপরীতে মনে হয়নি।
অন্যদিকে, বার্সেলোনা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে খুবই কম। লামিন ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন মার্ক কুকুরেয়া। যখনই ইয়ামাল চক্রব্যূহ ভাঙার সুযোগ পেয়েছিলেন, তখন তিনি বাজেভাবে ব্যর্থ হন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখানো রিয়াল গোলের দেখা পায় ৪১ মিনিটে। এতে বার্সা রক্ষণের দায়টাই যেন বেশি। ইয়ান দিওমান্দের নিরীহগোছের এক ক্রস গিয়ে পড়ে জেরার্দ মার্তিনের পায়ে। তিনি সেটি ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন মাঠের ভেতরের দিকে। তবে সেটি বক্সে আগুয়ান এমবাপ্পের গা ছুঁয়ে জড়ায় জালে।
এই গোলের আগে পর্যন্ত বার্সেলোনা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। পেদ্রি একের পর এক মিসপাসে বল হারাচ্ছিলেন, ইয়ামালও একই পথে হাঁটছিলেন। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইয়ামাল একটি বড় সুযোগ পেয়েছিলেন। বক্সের ভেতরে অনেকটাই ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, সামনে ছিলেন শুধুই আন্দ্রিই লুনিন। কিন্তু তিনি কাছের পোস্টে শট নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। শেষমেশ তা লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাদ্রিদ দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পায়। জুড বেলিংহাম কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসেছিলেন, তার সামনে ছিলেন শুধুই মার্তিন, পাশে ছিলেন এমবাপ্পে। পাস দিলেই খেলা শেষ হতে পারতো। কিন্তু বেলিংহাম নিজে শট নিতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন।
এরপর গোলটি বার্সার হয়ে আসে, তাতেও বেলিংহামের ‘অবদান’ ছিল। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রি বল বাড়ান বক্সে থাকা রাফিনিয়াকে। বেলিংহামের পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নেন রাফিনিয়া, সেটি লুনিনের হাত ছুঁয়ে জড়ায় জালে। অনেকটাই ধারার বিপরীতে পাওয়া এই গোলের পর মনে হচ্ছিল বার্সা বুঝি এবার জেগে উঠল!
কিন্তু উলটো জাগল রিয়াল মাদ্রিদই। ৮৭ মিনিটে পেল তার ফল। আর এতে বেলিংহাম যেন কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। নিজেদের অর্ধে একাধিক বার্সা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ইংলিশ এই মিডফিল্ডার বল বাড়িয়ে দেন উইংয়ে। সেখানে আগুয়ান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা পাউ কুবারসিকে এড়িয়ে বল দেন এমবাপ্পেকে, এবং গোল। বার্সেলোনা গোলের সুযোগ তৈরি করতেই হিমশিম খাচ্ছিল, ঠিক তখন নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট বাকি থাকতে গোল হজমের পর ম্যাচের আর কিছু বাকি থাকে না।
এরপর এমবাপ্পে বালদে আদেয়েমিদের হলুদ কার্ডে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়েছে। কিন্তু ফলাফলের চেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি করতে পারেনি। রিয়াল মাঠ ছেড়েছে ২-১ গোলে জিতে। আর তাতেই উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামতে হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন