প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন-এমপি মন্তব্য করেছেন যে, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় অগ্রসর হওয়ার জন্য নিজস্ব জ্ঞান ও মননের গভীরতা অপরিহার্য। মানুষের মনোজগৎ, প্রকৃতি, মহাবিশ্ব, আধ্যাত্মিকতা এবং সর্বশক্তিমানের বিশালতা সম্পর্কে অনুসন্ধানী চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা একজন সাহিত্যিকের মধ্যে থাকা আবশ্যক। কেবল ছন্দ মিলিয়ে ছড়া লেখা এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সভ্যতার গতিপথ বিশ্লেষণ করা যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জ্ঞান, গভীর মনন এবং প্রকৃতিকে বোঝার সক্ষমতা। গৌরনদী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজ, বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি সমাজের আয়োজনে শুক্রবার কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান-২৬ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো প্রতিভাবান সাহিত্যিকদের সৃষ্টির গভীরে প্রবেশ করলে তাদের জ্ঞান ও চিন্তার ব্যাপ্তি উপলব্ধি করা যায়। রবীন্দ্রনাথের ‘আকাশ ভরা সূর্য-তারা’ গানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে গভীর ধারণা না থাকলে এমন বিস্ময়কর সৃষ্টির জন্ম দেওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং সাহিত্যিকদের শুধু সাহিত্য নয়, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সমাজ, প্রকৃতি এবং মানুষের মনোজগতসহ জ্ঞানের প্রতিটি শাখা সম্পর্কে ধারণা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
সাহিত্যে গভীরতার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মাত্র ১৭ বছর বয়সে একজন তরুণ সাহিত্যিক মানুষের প্রেম ও মনোজগতের জটিল অনুভূতিকে যেভাবে গল্পে তুলে ধরতে পারেন, তা বিস্ময়কর। মানুষের মনে ভালোবাসার যে সূক্ষ্ম রসায়ন কাজ করে, সেটি গভীরভাবে উপলব্ধি ও ব্যাখ্যা করার জন্য বয়সের পাশাপাশি প্রয়োজন তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ও অসাধারণ কল্পনাশক্তি। তাই সাহিত্যিকের প্রধান শক্তিগুলোর একটি হলো মানুষের মনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, সাহিত্যিকের কল্পনাশক্তি যত সমৃদ্ধ হবে, তার সৃষ্টিশীলতার পরিধিও তত বিস্তৃত হবে। চারপাশের মানুষ, প্রকৃতি ও সমাজকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারলেই কল্পনার ডানা মেলে দেওয়া সম্ভব। জ্ঞানের পরিধি যত বাড়বে এবং পর্যবেক্ষণ যত তীক্ষ্ণ হবে, ততই একজন সাহিত্যিক মানুষের অসীম মনোজগতের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হবেন।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অপরিসীম প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেম, বিদ্রোহ, আনন্দ-বেদনা কিংবা পারিবারিক অনুভূতি-জীবনের প্রায় প্রতিটি আবেগে তাদের সৃষ্টি মানুষের মনে ফিরে আসে। সুতরাং নতুন প্রজন্মের সাহিত্যিকদেরও জ্ঞান, মনন, পর্যবেক্ষণ ও কল্পনাশক্তিকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইব্রাহীম, মানিকগঞ্জ আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল ড. হারিস মিজান, বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কবি, পাঠক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন