প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নাম থাকার অভিযোগে স্থানীয় প্রার্থী ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদের নোটিশ বোর্ডে তথ্য সংগ্রহকারী পদে ১৬৮ জন, অপেক্ষমাণ ৭৭ জন এবং সুপারভাইজার পদে ১৭ জন ও অপেক্ষমাণ তিনজনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুই ধাপে দুই পদে প্রায় চার হাজার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় তিন হাজার পাঁচশত প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
প্রকাশিত তালিকা পর্যালোচনা করে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেন, পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৩৭ নম্বর ক্রমিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ৬৭ নম্বর ক্রমিকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নেওয়াশী ও সন্তোষপুর ইউনিয়নের তালিকায় ছাত্রলীগের কর্মীদের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পৌরসভায় জাতীয় পার্টির ছাত্রসমাজের এক সদস্যের নাম থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া পৌরসভা, মালভাঙ্গা, বামনডাঙ্গা ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নে সুপারভাইজার পদে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাইরে থেকে প্রার্থী এনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, তিনি কালীগঞ্জ ইউনিয়নের সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা ও ভাইবায় উত্তীর্ণ হলেও তাকে বাদ দিয়ে অন্য ইউনিয়নের একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি বৈষম্য ও অবিচার হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তালিকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য, স্বামী-স্ত্রী দুজনের নাম, একজনের নাম একাধিক ক্রমিকে থাকা এবং এক পদের প্রার্থীকে অন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন প্রার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ড থেকে কোনো প্রার্থী না নেওয়া হলেও একটি ওয়ার্ড থেকেই চারজনকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ১৬ ও ১৮ নম্বর, নুনখাওয়া ইউনিয়নের ১৪২ ও ১৪৩ নম্বর এবং কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮৫ ও ৮৬ নম্বর ক্রমিকসহ কয়েকটি তালিকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও স্বামী-স্ত্রীর নাম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তালিকা পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ধনীরামপুরের জাহিদ হাসানের নাম সন্তোষপুর ইউনিয়নের ১২৩ ও ১২৯ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে কচাকাটা ইউনিয়নের ধনীরামপুর গ্রামের লিসা মনি খাতুনের নাম তথ্য সংগ্রহকারী পদে কেদার ইউনিয়নের ১৬০ এবং কচাকাটা ইউনিয়নের ৩৩ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভাইবার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রার্থীরা। ভাইবা বোর্ডের সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, যারা পাস করেছেন তাদের পাস এবং যারা ফেল করেছেন তাদের ফেল দেখানো হয়েছে; কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি, বরং সংকেত ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে ওই সংকেতের ভিত্তিতে কীভাবে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড কী ছিল—এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি অফিসে গিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন এবং ফোনে বিস্তারিত বলতে পারবেন না বলে জানান।
ভাইবা বোর্ডের সদস্য ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ কবীর জানান, দুই ধাপে প্রায় তিন হাজার পাঁচশত প্রার্থী ভাইবা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, অনিয়মের অভিযোগে সমাজসেবা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের নাম প্রত্যাহারের চেষ্টা করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানান। পরে কলব্যাক করার কথা বললেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার অভিযোগগুলো তদন্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় প্রার্থীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন