প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’ চালু করেছে ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিআরডিএফ) উদ্যোগ মনোকথা। এই উদ্যোগটি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও আবেগজনিত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলার জন্য নিয়মিত মানসিক যত্ন এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে গৃহীত হয়েছে।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মনোকথা কেয়ার কার্ডটির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
ডিআরডিএফের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির (বিপিএ) সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দিন ইলিয়াস।
তিনি মন্তব্য করেন, "মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। যা ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু।" তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনের জীবনে অনেক মানুষ মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও আবেগজনিত সমস্যার মধ্যে দিয়ে গেলেও সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব এবং প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা সহায়তা নিতে আগ্রহী হন না কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে দূরে থাকেন। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে মানসিক স্বাস্থ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
মনোকথার কার্যক্রম, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক তানজীম জামান। তিনি বলেন, "মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।"
মনোবিজ্ঞানী ও মেন্টর হৃদয় ইফতেখার ইফতি ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’-এর পরিচিতি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি কার্ডটির প্রয়োজনীয়তা, এর মাধ্যমে পাওয়া সুবিধা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার নিয়মিত যত্ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে মনোকথা ও কেয়ার কার্ডের কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন শেষে আলোচনায় অংশ নেন পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রসুল বাবুল, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও এইচআরডিসির পরিচালক জিয়ানুর কবীর, সাইকোসোস্যাল কাউন্সিলর মো. সামসুজ্জামান মোল্লা (ইমন), মনোবিজ্ঞানী তারিন তাবাসসুম, সাইকোসোস্যাল কাউন্সিলর সুলতান ভূইয়া প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, "শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্যেরও নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন।" তিনি উল্লেখ করেন, মানসিক সংকট তীব্র হওয়ার আগেই সমস্যা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব। এ জন্য মানুষের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ও সামাজিক সংকোচ দূর করতে হবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিসরে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনের সময় পেশাদার সহায়তা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। তারা মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো, জনসচেতনতা তৈরি এবং তরুণদের জন্য সহায়তামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন। এ সময় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, উদ্যোগটি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত মানসিক যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, মানুষের মানসিক সুস্থতার নিয়মিত যত্ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মনোকথা কেয়ার কার্ড চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং মানুষের জন্য আরো সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবে মনোকথা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন