প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে জাল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ১১৬৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর দুই জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতের নিকট পাঠিয়েছে।
গত ১৩ জুলাই রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১১০০ জনকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন, মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান কুড়েরপাড় এলাকার জাকির (২২) এবং মামুন (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই বিকালে উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান চালিয়ে বিশাল আকৃতির চারটি নিষিদ্ধ (খনা) জাল ও দুটি নৌকা জব্দ করে মোহনগঞ্জ থানার অধীন আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা। প্রতিটি খনা জালের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৫০০ ফুট। জব্দ করা জাল এবং নৌকা তদন্ত কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরদিন, ১২ জুলাই দুপুরের দিকে কয়েকশ জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পৌঁছে জব্দকৃত জাল ও নৌকা নিয়ে যান। পরে ১৩ জুলাই পুলিশ হাওরে অভিযান চালিয়ে একটি খনা জাল উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় আদর্শনগর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল পারভেজ বাদী হয়ে ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১১০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান জানান, মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্যোগে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর হাওরে ৭৫ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। পোনাগুলো বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তবে স্থানীয় জেলেদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গত ২৮ জুন শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা বৈধভাবে মাছ ধরার অধিকার ফিরে পেয়েছে। এই কারণে স্থানীয়ভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা অনীহা প্রকাশ করছেন। এ বিষয় নিয়ে জেলে ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে প্রশাসন পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাওরের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এবং দেশীয় মাছের বিস্তার বাড়াতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন