প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের পর এবার পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে বাণিজ্য মেলা নিয়ে আপত্তি তুলেছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি। মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এমন একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যাদের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার অভিযোগ ও মামলা থাকার দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. কামাল হোসেনের সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মেলা পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর না করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তথ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন নথি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির দাবি, আলোচিত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, আমির হোসেন সিলেটের একটি নিষিদ্ধ মহানগর যুবলীগের পদে ছিলেন এবং আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে সিলেটে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ঘিরে সিলেটে সংঘটিত একটি মামলায় ‘আমির হোসেন খান’ নামের একজনকে আসামি করার তথ্য পাওয়া গেছে।
মেলা আয়োজনের দায়িত্ব কাদের দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, “আপনার তথ্য-প্রমাণ দিন। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। যদি তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা চুক্তি বাতিল করব।”
এদিকে, একটি সূত্র দাবি করেছে, মেলাটি চেম্বার অব কমার্সের কাছ থেকে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চেম্বারকে অগ্রিম হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দিয়েছে। তবে এই অর্থের বাইরে চেম্বার অব কমার্সের কোনো এক কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে আরও বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। ওই অর্থের বিনিময়েই মেলার দায়িত্ব বিতর্কিত হিসেবে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটির দাবি।
তবে এ অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির পক্ষ থেকে জনস্বার্থের বিষয়টি উল্লেখ করে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককেও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা। একই বিষয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারকেও অবহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির বক্তব্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের রয়েছে। বিশেষ করে মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অতীত কার্যক্রম, মামলা এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে তাদের আপত্তির বিষয়টি উপেক্ষা করে বিতর্কিত হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে মেলার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে তারা আইনগত পথে এগোবে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে তাদের কাছে থাকা নথি, মামলা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে সংগঠনটির সদস্যরা মনে করছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাওয়ার আগেই পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসন বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এর আগেও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় দুমকিতে একটি বিতর্কিত মেলা বন্ধ করা হয়েছিল। ওই মেলার বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে মেলাটি বন্ধের নির্দেশ দেন বলে সংগঠনটির দাবি।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে এর আগেও শিল্প ও বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ মে পটুয়াখালীর ঝাউতলা মাঠে চেম্বারের আয়োজনে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করা হয়। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
এবারের মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কাদের দেওয়া হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা কতটুকু এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন ও চেম্বার কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়—সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের নজরে রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর নজরে চেম্বার অব কমার্সের আয়োজনে বাণিজ্য মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আনা হয়েছে। মেলা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবি সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মতামত জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এখন দেখার বিষয়, চেম্বার অব কমার্স ওই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে মেলার দায়িত্ব দিলে জেলা প্রশাসন মেলার অনুমোদন দেবে কি না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন