প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন নাগরিক গবেষকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) ক্ষেত্রে ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগের ঘোষণা দেবেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করতে আগ্রহী মার্কিন নাগরিকদের ফেলোশিপ প্রদান করা হবে, যা উচ্চ প্রশিক্ষিত গবেষকের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের (এনএসএফ) ‘ইয়াং স্কলার্স’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই কর্মসূচির জন্য সরকার ৩ কোটি ডলার বরাদ্দ দেবে। পাশাপাশি, জেন স্ট্রিটসহ বিভিন্ন বেসরকারি উৎস থেকে আরও ৫ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি কার্যালয়ের পরিচালক মাইকেল ক্র্যাটসিওস মন্তব্য করেছেন, ‘এই বিনিয়োগ বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখতে সহায়তা করবে।’
এদিকে, বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে ইলন মাস্ক, সার্গেই ব্রিন, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের প্রধান নির্বাহী লিসা সুসহ প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতাকে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগটি এমন একটি সময়ে আসছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি কার্যক্রম চাপের সম্মুখীন হয়েছে। চলতি বছরে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টরাল প্রোগ্রামে ভর্তি কমিয়েছে বা স্থগিত করেছে। আগের বছরের তুলনায় পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার সঙ্গে এই বিনিয়োগকে যুক্ত করা হচ্ছে। সম্মেলনে ট্রাম্প জ্বালানি বিভাগকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ১০ কোটি ডলারের কম্পিউটিং ক্রেডিট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ফলে দেশটির বৈজ্ঞানিক গবেষণা খাতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অর্থ বরাদ্দ কমানো, স্থগিত করা এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) চলতি বছর কেন্দ্রীয় গবেষণা তহবিল প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বছরে এসটিইএম বিষয়ে পিএইচডিধারী ১০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। এর মধ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) প্রায় ১১০০ কর্মী রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন