প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মো. তৌফিক (২১) বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পরিবারের অভাব দূর করতে পড়াশোনা বন্ধ করে গাজীপুরে গিয়েছিলেন। পোশাক কারখানায় কাজ করে তিনি সংসার চালাতেন। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণের সময় আর ফিরে আসা হলো না তার। হামলার ফলে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর বুধবার (৪ নভেম্বর) বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামে বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় তৌফিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত তৌফিক গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের মো. তৈয়বুর রহমানের ছেলে। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল গার্মেন্টস লিমিটেডে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব তৌফিকের উপর এসে পড়ে। মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই এক বন্ধুর মাধ্যমে গাজীপুরে গিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। নিজের উপার্জনে পরিবারের খরচ চালাতেন তিনি। এর মধ্যেই তার সংসারে সন্তান আসে।
গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চলছে। ওই আন্দোলনে তৌফিক সক্রিয় ছিলেন। গত সোমবার আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় হামলাকারীরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন তৌফিক।
পরে তার সহকর্মী ও আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার উত্তরার শিনশিন জাপান হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।
তৌফিকের বড় ভাই মো. হারুন বলেন, "যে বয়সে পড়াশোনা ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তৌফিক।" তার মৃত্যুতে পরিবার উপার্জনের অন্যতম অবলম্বন হারিয়েছে।
স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, এই কঠিন সময়ে সরকার তৌফিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াক এবং তার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজ আলম কালের কণ্ঠকে জানান, সকাল দশটায় তৌফিকের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন