প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দলীপ ট্রফির অভিষেক ম্যাচে বৈভব সূর্যবংশী বড় চমক প্রদর্শন করেছিল। যদিও ব্যাটিংয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল সন্তোষজনক নয়, কিন্তু বোলিংয়ে সে দুই উইকেট নিয়ে দাপট দেখিয়েছে।
এবার লাল বলের ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের অভিষেকেই ১৫ বছর বয়সী এই তরুণ ক্রিকেটার নজর কেড়েছে।
এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীপ ট্রফির সেমি ফাইনালে সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ম্যাচে ইস্ট জ়োনের স্ট্যান্ডইন অধিনায়ক হিসেবে বৈভব প্রথম রিভিউতেই সফলতা অর্জন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ডিআরএসের মাধ্যমে ম্যাচের পরিস্থিতি পাল্টে দেয় এই তরুণ। বৈভবের একমাত্র সিদ্ধান্তে পূর্বাঞ্চল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
ম্যাচের ১৯তম ওভারে ইস্ট জোনের অধিনায়ক ঈশান কিষান আঙুলে চোট পান। তার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করে বৈভব। এই সুযোগ পেয়ে ১৫ বছরের ক্রিকেটার স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ছিল। তবে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই সে মাঠের পরিস্থিতি কতটা তীক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে, তা প্রমাণ করে।
ঘটনাটি ঘটে সেন্ট্রাল জোনের ইনিংসের ৪০তম ওভারে। পেসার মুকেশ কুমার কট আউটের আবেদন তোলেন মধ্যাঞ্চলের ব্যাটার আরিয়ান জুয়েলের বিরুদ্ধে। কিন্তু অন-ফিল্ড আম্পায়ার সেই আবেদনে সাড়া দেননি। স্লিপে ফিল্ডিং করছিল বৈভব, এবং তার মনে হয়েছিল যে মুকেশের লেংথ ডেলিভারিতে জুয়েলের ব্যাটের কানায় বল লেগেছে।
এ কারণে মুকেশ বৈভবকে রিভিউ নেওয়ার জন্য রাজি করায়। শেষ পর্যন্ত ১৫ বছর বয়সী অধিনায়ক বৈভব রিভিউ নেয়।
এরপরেই আসে বৈভবের অধিনায়কত্বের প্রথম বড় মুহূর্ত। রিভিউয়ে দেখা যায়, বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আল্ট্রএইজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো যে বল ব্যাটে লেগেছিল। ফলে মাঠের আম্পায়ারকে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়। বৈভবের অনুমান একেবারে সঠিক প্রমাণিত হয়। প্রথম রিভিউতেই সাফল্য পেয়ে সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে এই তরুণ তারকা ক্রিকেটার।
ঈশান কিষান মাঠের বাইরে থাকায় উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন কুমার কুশাগ্র। রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্তে বৈভবকে রাজি করাতে তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ফলে জুয়েলের আউট হওয়ার পর বৈভবের সঙ্গে কুশাগ্রও যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে। ৪০ তম ওভারে এই উইকেট পড়ার পর সেন্ট্রাল জোনের স্কোর দাঁড়ায় ৯৯/৪। হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র চার রান দূরে থাকা জুয়েলকে আউট হয়ে ফিরতে হয়।
দলীপ ট্রফির মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে এটাই ছিল বৈভবের প্রথম অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা। ঈশান চোট পাওয়ার পর প্রায় ২০ ওভার দলের নেতৃত্ব দেয় বৈভব। পরে আঙুলে টেপ লাগিয়ে মাঠে ফেরেন ঈশান, তবে তিনি আর উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব নেননি। কিন্তু মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভব সূর্যবংশীর অধিনায়ক হিসেবে প্রথম রিভিউতে সাফল্য নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন