প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসা থেকে বের হয়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপ উদ্বোধন করতে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ এক নারীকে আটক করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃতি এবং ওই নারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
মমতা কালীঘাট মিলন সংঘের দুর্গাপূজার উদ্বোধনে যাচ্ছিলেন, যা তার বাড়ির নিকটবর্তী। তৃণমূল কংগ্রেসের সূত্র অনুযায়ী, মমতা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ভিড়ের মধ্যে এক নারী মিশে যান। এরপর তিনি মমতার কাছে গিয়ে তাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ওই নারী অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু লোককে ‘গায়ে কে হাত দিল’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একপর্যায়ে ওই নারী মাটিতে শুয়ে পড়েন। পরে মমতার নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কালীঘাট থানার পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক নারীর বাড়ি কলকাতার এস এন ব্যানার্জি রোড এলাকায়। পুলিশ তার সাথে কথা বলে ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করছে। তবে তার মানসিক অবস্থা বা আচরণের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে ঘটেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন মমতা। কলকাতায় ফেরার পর মঙ্গলবার রাজাবাজার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বাধায় সেই কর্মসূচি অগ্রসর হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এরপর সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপ উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলার চেষ্টা ঘটে। ফলে তার নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কিন্তু ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, আটক নারী কীভাবে মমতার এত কাছে পৌঁছালেন এবং নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।
মমতা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ ও পুলিশের তদন্তের ফল সামনে না আসা পর্যন্ত নিগ্রহের অভিযোগের সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন