প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপি। তিনি এ সম্পর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথাগুলি বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা করা শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।
এ বছরের বিশ্ব হাতি দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য হলো ‘Bringing the world together to help elephants’ এবং বাংলা প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হল হাতি ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একসময় দেশে প্রচুর হাতি ছিল কিন্তু বর্তমানে এ প্রাণীর সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। আবাসস্থল দখল এবং ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি জানান, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্য হাতির সংখ্যা ২৬৮টি, পরিযায়ী বন্য হাতি ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। ২০২৭ সালের মধ্যে পুনরায় হাতি জরিপের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
হাতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরার সময় মন্ত্রী বলেন, ‘Bangladesh Elephant Conservation Action Plan (2018–2027)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার রয়েছেন। তিনি জানান, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ২০১২ সাল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত নিহত ৩২২ ব্যক্তির পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৫৯টি Elephant Response Team (ERT) গঠন করা হয়েছে। এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া, হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্ত্রী বলেন, হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনোই টেকসই হবে না।
বিশেষ অতিথি হিসেবে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তাঁর নির্বাচনী এলাকার হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
আরো পড়ুন
হাম ও উপসর্গে আরো ৫ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১০২৫।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি রক্ষায় উদ্যোগের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হওয়ায় নতুন প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। প্রথমে আয়োজনটি ছিল বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে, এরপর প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন