প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুক্তাগাছায় অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অভিযোগকারীরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে সমাধানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সরকারি দপ্তরগুলোর তরফ থেকে। সোমবার উপজেলা প্রশাসন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) মুক্তাগাছার যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাক বাংলো মাঠে এই গণশুনানির আয়োজন করে।
গণশুনানির সভাপতিত্ব করেন সনাক মুক্তাগাছার সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সবুর। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয় উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার।
শুনানিতে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা সমাজসেবা অফিস, উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন এবং সুবিধাভোগীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রায় ৪ শতাধিক সাধারণ নাগরিক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এতে ১৭ জন অংশগ্রহণকারী উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের সেবা খাত বিষয়ে মোট ২৩টি অভিযোগ ও পরামর্শ উত্থাপন করেন।
সরকারি সেবা প্রদানকারী অফিসারদের মধ্যে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুবনা আহমেদ লুনা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন কান্তি সাহা, মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার কবিতা নন্দী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকিয়া আক্তার, সাব রেজিস্ট্রার এস এম শফিউল বারী এবং উপজেলা সমাজ সেবা অফিসারের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান।
টিআইবির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মো: দেলোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো: আখতারুজ্জামান এবং সনাক সদস্য এম ইদ্রিছ আলী। এতে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আকন্দসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে অভিযোগকারীগণ কর্তৃক উত্থাপিত বিষয়ের মধ্যে ছিল, উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে সেবা পেতে হয়রানি, স্বজনপ্রীতি, দালালদের দৌরাত্ম, সেবা পেতে বিলম্ব, ঘুষ লেনদেনের জন্য বাধ্য করা, নামজারি বা খারিজ করতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রশিদ ব্যতীত অর্থ লেনদেন, কর্মকর্তার অনুপস্থিতি, অফিসের সময়সূচি অনুসরণ না করা, দায়িত্বে অবহেলা, অভিযোগ ও পরামর্শ বক্সের অভাব, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সেবাগ্রহীতাদের প্রতি মনযোগের ঘাটতি, তথ্য প্রকাশে অনীহা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি ইত্যাদি। এছাড়া, মাদক নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, অবৈধভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের জন্য অনুরোধ করেন অংশগ্রহণকারীগণ।
দুদকের উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার গণশুনানিতে উত্থাপিত ইস্যুসমূহের সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ ও সুপারিশ করেন। উত্থাপিত অভিযোগসমূহ সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এসময় তিনি অংশগ্রহণকারীদের দুর্নীতি হ্রাস, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকারে নানাবিধ আইন ও পদ্ধতি বা টুলস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। যেকোনো অভিযোগের সমাধান পেতে তার দপ্তরে দ্রুত জানানোর জন্যও তিনি উৎসাহিত করেন। উল্লেখ্য, উক্ত গণশুনানির পূর্বে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে ওয়েব পোর্টাল স্টাডির প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এ দিবসকে কেন্দ্র করে তথ্য অধিকার বিষয়ক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন