প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুর সীমান্ত পথে বানের পানির মতো ভেসে আসছে মাদক সহ ভারতীয় মালামাল।
শেরপুর জেলার তিনটি উপজেলা সীমান্তবর্তী। এই তিনটি উপজেলা হলো ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী। প্রতিদিনই এই সব উপজেলায় কোন না কোন সীমান্ত পথে ভারতীয় মালামাল সহ মাদক ভেসে আসছে। এমন কোন দিন নেই যে, কোন না কোন উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে ভারতীয় মালামাল সহ মাদক জব্দ হচ্ছে না।
তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ভারতীয় মাদক সহ মালামাল জব্দ হওয়ার তুলনায় চোরাকারবারীদের গ্রেপ্তার করা হয় না বললেই চলে। মাঝে মাঝে দুই একজন আটক হলেও তারা সাধারণত অতিদরিদ্র বাহক মাত্র। মূল চোরাকারবারীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে, ফলে চোরাচালান বন্ধ করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তের বালিজুরি খ্রিস্টানপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ব্যান্ডের মাদক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি।
২৬শে সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে ৩৯ বিজিবির তাওয়াকোচা সীমান্ত ফাঁড়ির একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রনিশিমুল ইউনিয়নের খ্রিষ্টান পাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের ৯৬ বোতল মদ জব্দ করেছে।
বিজিবির দাবি, অভিযান চলাকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ভর্তি কার্টুন ফেলে পালিয়ে যায় মাদক চোরাকারবারি দলের সদস্যরা।
৩৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির ময়মনসিংহের তাওয়াকোচা সীমান্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার মোঃ রবিউল ইসলাম মাদক জব্দ করার সত্যতা নিশ্চিত করে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধারকৃত মাদকের কার্টুন ফেলে রেখে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। যা সীমান্ত পথে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা হয়েছিল।
উদ্ধারকৃত ৯৬ বোতল ভারতীয় মাদকের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। বিজিবি জানায়, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মাদকের বোতলগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শেরপুর সীমান্তের উল্লেখিত তিনটি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সঙ্ঘবদ্ধ চোরাকারবারী চক্র ভারত থেকে অবৈধভাবে মাদক, গরু, ইলেকট্রিক সামগ্রী, প্রসাধনী ও কসমেটিক সামগ্রী, যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঔষধ, জিরাসহ মসলা ও শিশু খাদ্য এবং বিভিন্ন সামগ্রী এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে।
বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় মাদক, গরু সহ বিভিন্ন সামগ্রী আটক হলেও মূল চোরাকারবারীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে।
অনুমান করা হচ্ছে যে, শেরপুর সীমান্ত পথে যে পরিমাণ ভারতীয় মাদক, গরু, ঔষধ, জিরা ও কসমেটিকস সহ ভারতীয় মালামাল জব্দ করা হয়, তার চেয়ে বড় বড় চালান পাচার হয়ে যাচ্ছে।
২৭ সেপ্টেম্বর রোববার শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া সীমান্তের ডুমুরতলা পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জনসন বেবি সাবান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
জব্দকৃত সাবানের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। কর্ণঝোড়া বিওপির ইনচার্জ সুবেদার ফুলমিয়া ভারতীয় সাবান জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতভর অভিযানের অংশ হিসেবে রোববার ভোরে ডুমুরতলা এলাকা থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন