প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদকবিরোধী সচেতনামূলক সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ফলে এস এম আফতাব আহমেদ নামে এক ছাত্রদল কর্মী আহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাবনার সুজানগর পৌরসভার মানিকদীর তিনমাথার মোড় এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। ঘটনার পর রাতে বিএনপি কর্মী আনিসুর রহমান সুজানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, মানিকদীর এলাকাকে মাদকমুক্ত করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গতকাল সোমবার বিকেলে একটি মাদকবিরোধী সচেতনামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এই সভার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সভায় হামলা চালায়।
এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আফতাব আহমেদ নামের ছাত্রদল কর্মী আহত হয়ে সুজানগর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হন।
হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মানিকদীর গ্রামের কালাম শেখের ছেলে সুজাউদ্দিন সুজা প্রধান আসামি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে মাদক সেবনের অভিযোগে সুজানগর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বাবুকে পুলিশ আটক করে ডোপ টেস্টে পাঠায়। ডোপ টেস্টে তার শরীরে নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি শনাক্তের পর পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো সাত দিনের কারাদণ্ড দেন।
এর পর থেকেই বাবুর অনুসারীদের সঙ্গে এলাকার মাদকবিরোধী একটি পক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যায় মানিকদীর মোড় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মাদকবিরোধী পক্ষের দাবি, বাবুর অনুসারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। অন্যদিকে, বাবুর অনুসারীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, মাদকবিরোধী পক্ষই সশস্ত্র অবস্থায় তাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
আহত ছাত্রদল কর্মী আফতাব আহমেদ বলেন, শফিউল আলম বাবুকে আটকের পর থেকে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় আমি অতর্কিত হামলার শিকার হই। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
এ বিষয়ে সুজানগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লালবুর রহমান বলেন, 'ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ এবং ঘটনার জন্য লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন