প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংসারের অভাব দূর করার উদ্দেশ্যে বাবা-মা তাদের একমাত্র ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল যে, ছেলে উপার্জন করে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানো রংপুরের পীরগঞ্জের ২৪ বছর বয়সী তরুণ মনিরুল ইসলাম শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।
একমাত্র সন্তানের লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে চারপাশে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহত মনিরুল ইসলাম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ী (চন্দ্রকোনা) গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে। তিনি ছিলেন এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আর্থিক সংকট দূর করতে ধারদেনা করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান মনিরুল। তার পাঠানো সামান্য টাকায় কোনোমতে চলছিল চার সদস্যের সংসার। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর হঠাৎ করে মালয়েশিয়া থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ পান স্বজনরা।
কিভাবে এবং কী কারণে তার মৃত্যু হলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি পরিবার। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, মনিরুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে বিষয়টি যেন তদন্ত করা হয়।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা ইয়াসিন আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম সংসারটা একটু সাজাতে। আজ সে ফিরল লাশ হয়ে। এখন আমাদের কী হবে?’
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে মুহ্যমান মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমার ছেলে থাকত, তারা ফোন করে জানায়—রাতে ঘুমিয়েছিল, সকালে আর ওঠেনি। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু কী কারণে আমার বুক খালি হলো, তা আমরা জানি না। এখন আমাকে ‘মা’ বলে ডাকবে কে?’
নিহতের চাচা আলতাফ হোসেন বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে ভাতিজাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। গত ১৫ অক্টোবর কিভাবে তার মৃত্যু হলো, আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ জানতে চাই।’
শুক্রবার সকালে মনিরুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
প্রতিভাধর এক তরুণের এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবার ও স্বজনেরা এখন একটাই দাবি করছেন—সরকারের সংশ্লিষ্ট মাধ্যম দিয়ে যেন মনিরুলের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন