প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ বসনিয়ার মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার জন্য দায়ী যুদ্ধাপরাধী জেনারেল রাতকো ম্লাদিককে সামরিক মর্যাদা প্রদান করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি কারা হাসপাতালে ৮৪ বছর বয়সে মারা যান।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে রাতকো ম্লাদিকের মৃতদেহ সার্বিয়াতে পৌঁছায়। বসনিয়ার কসাই নামে পরিচিত এই যুদ্ধাপরাধীর কফিনটি সার্বিয়ার পতাকায় মোড়ানো ছিল। তার মরদেহ বহন করতে ছয়জন সেনা উপস্থিত ছিলেন এবং সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে ও বিচারমন্ত্রী নেনান্দ ভুজিক।
পুলিশের স্কর্টে তার মরদেহ বেলগ্রেডের একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুর কারণ জানার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিক গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিলেন যে, এই দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানো হবে। রাতকো ম্লাদিক ১৯৯২-৯৫ সালের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধে আট হাজার মুসলিমকে হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সার্বিয়া সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, "তার মতো একজন অপরাধীর স্থান ইউরোপে নেই এবং এসব অপরাধেরও কোনো স্থান নেই।"
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের নির্ধারণ করা ‘সেফ এরিয়া’-তে আট হাজার মুসলিমকে হত্যার নির্দেশ দেন রাতকো ম্লাদিক। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় নৃশংস হত্যার ঘটনা। মুসলিম পুরুষ ও বালকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।
এই ভয়াবহ গণহত্যার পর রাতকো ম্লাদিকের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০২১ সালে তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়। ২০১৭ সালে দেওয়া রায়ে আদালত এই জেনারেলের হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবজাতির জঘন্যতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন