প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের থেনি জেলার একটি উপকারাগার থেকে বন্দিদের পালানোর ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া ১৭ বিচারাধীন বন্দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার কারণে কয়েকজন বন্দি পালানোর পরিকল্পনা করে। একজন বন্দি অভিনয় করে মৃগীরোগের খিঁচুনি হচ্ছে বলে কারারক্ষীদের ব্যস্ত রাখে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পালানোর পরিকল্পনা করা হয় এবং রাত ১০টার দিকে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর বন্দিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, যা পালানোর পরিকল্পনার পেছনে একটি কারণ।
তদন্তে জানা গেছে, ২৬ বছর বয়সী বিচারাধীন বন্দি লিঙ্গা প্রসাদ এই পরিকল্পনার মূল হোতা। তিনি কারারক্ষীদের বিভ্রান্ত করতে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করার পরামর্শ দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডাকাতির মামলায় অভিযুক্ত আরেক বন্দি মুথু ইলাঙ্গোভান অভিনয় করে মৃগীরোগের খিঁচুনি হচ্ছে বলে। এতে কারারক্ষীরা তার সহায়তায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বন্দিরা পালানোর চেষ্টা করে।
কারারক্ষীরা খিঁচুনির অভিনয় করা বন্দির কাছে এগিয়ে এলে অন্য বন্দিরা হইচই শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তারা নিজেদের ব্লক থেকে বের হয়ে রান্নাঘরের সরঞ্জাম দিয়ে কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। পরে প্রবেশপথের কাছে থাকা অন্য কারাকর্মীদেরও কাবু করে চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং কারাগার থেকে পালিয়ে যায়।
দক্ষিণাঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক বিজয়েন্দ্র বিদারি এনডিটিভিকে জানান, বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পালানোর পরিকল্পনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পালানোর পরিকল্পনাটি মূলত লিঙ্গা প্রসাদই করেছিলেন। তিনি শারীরিকভাবে আংশিক অক্ষম। সেদিন সন্ধ্যায় কয়েকজন বন্দি জামিনের আবেদন খারিজ হওয়া নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখনই লিঙ্গা প্রসাদ পালানোর প্রস্তাব দেন। অন্য বন্দিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই প্রস্তাবে রাজি হন বলে মনে হচ্ছে।’
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, লিঙ্গা প্রসাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, ছিনতাই, চোরাই মাল রাখা ও হস্তান্তরসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া, সেদিন জামিন না পাওয়ায় আরও দুই বন্দি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাদের ক্ষোভও পালানোর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।
ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য এবং কে কী ভূমিকা রেখেছিলেন তা খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা পালিয়ে যাওয়া ১৭ বন্দিকেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। যে ব্লক থেকে বন্দিরা পালিয়েছিলেন, সেখানে মোট ৩২ জন বিচারাধীন বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন পালিয়ে যান। বাকি বন্দিরা এ ঘটনায় কোনোভাবে সহায়তা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দিদের পালানোর পরিকল্পনাটি দীর্ঘদিন ধরে করা হয়নি। বরং ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিজেদের মধ্যে আলোচনার সময়ই পরিকল্পনাটি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বন্দিরা কীভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করেছিলেন এবং কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা কীভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন