প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, গণতন্ত্রে সংবাদ মাধ্যমের ব্যাপক দায়িত্ব রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, "নীতিমালা করে মানুষকে ভালো করা যায় না।" তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নীতিমালা তৈরি করে হয়তো আইনের মধ্যে বিষয়গুলো আনা সম্ভব হবে।
তবে তিনি নৈতিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষ করে একটি হাফ-ট্রুথ (আংশিক সত্য) সংবাদের জন্য যাতে কারো ক্ষতি না হয়। একইভাবে, কারো অতিরিক্ত প্রশংসাও যাতে না হয়, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সকালে ভোলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে মিডিয়া একদম ফ্রি।" তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা আপনাদের মতো করে কাজ করবেন।" তিনি মনে করেন, মিডিয়া গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা দেখবেন, তাদের কাজগুলো ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ। একই সময়ে, তাদের কলমের লিখনিতে যেন কারো জীবন, ক্যারিয়ার, মান-সম্মান নষ্ট না হয়, সেটি তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আন্দালিভ রহমান পার্থ আরও বলেন, "আমি সংবাদ মাধ্যমের ওপর কখনো হস্তক্ষেপ করি নাই।" তিনি বলেন, "২০টি টিভি চ্যানেল ও হাজার হাজার পত্রিকা আপনার পক্ষে থাকলেও আল্লাহ যদি না চায় আপনি থাকতে পারবেন না।" তিনি উল্লেখ করেন যে, গত দুই বছর আগে দেখা গেছে, সব কিছু আপনার পক্ষে থাকলেও যখন সময় আসে, তখন কেউ আপনার পক্ষে থাকে না। আল্লাহ যখন চাইবেন না, তখন মানুষের মনে আপনার প্রতি ঘৃণা জন্মাবে।
তিনি আরও বলেন, "আমার কখনো আগ্রহ ছিল না যে, আমার পক্ষে ১০ জন সাংবাদিক লিখবে বা না লিখলে আমি ফোন করে তাদের চাকরি নষ্ট করব।" তিনি এই চর্চা থেকে বের হতে চান।
সাইবার বুলিং নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "সাইবার বুলিং একটা বড় ইস্যু।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সাইবারে এ ধরনের নিউজের জন্য সংবাদের সৃজনশীলতা অনেক কমে গেছে। মানুষ এখন ফেইক নিউজ (ভুয়া সংবাদ) বলেই সন্দেহ প্রকাশ করেন।
পার্থ বলেন, "আজকে পরিস্থিতি আলাদা, জেনারেশন আলাদা এবং মিডিয়াসহ সব কিছুই আলাদা।" তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "যখন কলম নিবেন, লিখবেন আমাদের সমালোচনা করবেন।" তিনি তাদের জানান, "আমাদের কাজগুলো কোথায় কোথায় ঠিকমতো হচ্ছে সেগুলো দেখবেন।" তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের নিয়ে সংবাদ করবেন আমাদের সাহায্য করার জন্য, যাতে করে আমরা সঠিকভাবে কাজটা করতে পারি।" তিনি সতর্ক করেন যে, সংবাদে যেন দূষিত কিছু না থাকে এবং ব্যক্তিগত রাগ ও ক্ষোভ থেকে সংবাদ না হয়।
ভোলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন লিটনের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম, জেলা বিজেপির সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর জেলার পলিটিক্যাল সেক্রেটারি জিয়া উল মোরশেদ চৌধুরী, দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক মু. শওকাত হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক এম এ তাহের প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন