প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : পরিবারের প্রধান গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, স্ত্রী সিনেটর, দুই ছেলে কংগ্রেস সদস্য এবং তৃতীয় ছেলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে বুধবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসন শুরু করেছেন। ব্রাজিলের বলসোনারো পরিবার বর্তমানে ক্ষমতার লড়াই, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, যা দেশটির জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহকেও হার মানায়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন এবং অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এই ঘটনার ফলে ব্রাজিলে বলসোনারো-সমর্থিত রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটবে।
কিন্তু পরিবারের রাজনৈতিক ভাগ্য আবারও পরিবর্তিত হয়। জাইরের ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো একসময় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হন। পরিবারের আরও চার সদস্য কংগ্রেসে নির্বাচিত হন।
তবে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও। পরবর্তীতে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের কারণে তিনি ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান।
পরিবারের প্রধান ও অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জাইর বলসোনারো বর্তমানে গৃহবন্দি রয়েছেন। ৭১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বক্তব্য এবং ‘ঈশ্বর, মাতৃভূমি ও পরিবার’ এই আদর্শের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে রক্ষণশীলদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন লাভ করেছেন। তবে সমকামীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং নারীদের হেয় করার বক্তব্যের জন্যও তিনি সমালোচিত হয়েছেন।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাইর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে লুলাকে ক্ষমতা গ্রহণে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ফ্লাভিও নির্বাচনে জয়ী হলে বাবাকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর জাইরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ফ্লাভিও : ‘মধ্যপন্থী’ ভাবমূর্তি থেকে নির্বাসনে
জাইরের পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় ফ্লাভিওর বয়স ৪৫ বছর। বাবার রক্ষণশীল সমর্থকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মতাদর্শে কম কঠোর ভোটারদেরও আকৃষ্ট করতে তিনি নিজেকে বাবার তুলনায় অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী হিসেবে তুলে ধরেন। প্রথম দফার ভোটে জয়ী হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার আগে তাঁকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।
বাবাকে নিয়ে নির্মিত ‘ডার্ক হর্স’ নামের একটি জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের অর্থায়ন-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগসহ একাধিক ঘটনায় ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। বিতর্কিত ব্যাংকার ড্যানিয়েল ভোরকারো চলচ্চিত্রটির অর্থায়ন করেছিলেন।
ভোরকারোর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথা প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন ফ্লাভিও। তবে ব্যাংকারকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য অনুরোধ করে তাঁর দেওয়া অডিও ফাঁস হওয়ার পর তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট চেয়েছিল। তবে তাঁদের এড়িয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছান ফ্লাভিও।
মিশেল : সৎমা থেকে সিনেটর
৪৪ বছর বয়সী মিশেল বলসোনারো জাইর বলসোনারোর স্ত্রী। তাঁর সৎছেলেদের তিনজনের বয়সও তার কাছাকাছি। ধর্মপ্রাণ ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান ও স্বামীর প্রতি নিবেদিত মিশেল নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি রাজধানী ব্রাসিলিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।
দারিদ্র্যের মধ্যে মাদক পাচারকারীদের পরিবেশে বেড়ে ওঠা মিশেল কংগ্রেসে একটি চাকরির সুযোগ পাওয়ার পর জাইরের সঙ্গে পরিচিত হন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ফ্লাভিওর সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয়। মিশেল তার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন।
ফেব্রুয়ারিতে জাইরের আরেক ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারো ফ্লাভিওর প্রচারণায় যথেষ্ট সমর্থন না দেওয়ার জন্য মিশেলের সমালোচনা করেন। এর জবাবে মিশেল স্বামীর জন্য ভাজা কলা তৈরির একটি ছবি প্রকাশ করেন। এটিকে এদুয়ার্দের প্রতি কটাক্ষ হিসেবে দেখা হয়। তাঁকে বিদ্রূপ করে ‘ছোট কলা’ নামে ডাকা হয়।
এরপর এদুয়ার্দো এক সমর্থকের পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে বলা হয়েছিল, তিনি ও ফ্লাভিও যখন ‘দেশকে উদ্ধার’ করার কাজে ব্যস্ত, তখন মিশেলের ভাজা কলা তৈরি করাই উচিত।
এদুয়ার্দো : অস্ত্র ও ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ
৪২ বছর বয়সী এদুয়ার্দো ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ব্রাসিলিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রক্ষণশীল রাজনৈতিক সম্মেলনগুলোতে বক্তব্য দেন।
দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় আইনপ্রণেতা হিসেবে তাঁর আসন হারান তিনি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পক্ষে তদবির করার দায়ে জুনে অনুপস্থিতিতেই তাকে চার বছর দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জাইর বলসোনারোর ছেলেদের মধ্যে এদুয়ার্দোকে সবচেয়ে কট্টরপন্থী হিসেবে দেখা হয়। ব্রাজিলে অস্ত্র আইন শিথিল করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি নিজের কেনা রাইফেল ও আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
পরিবারের ‘পিটবুল’ ও অন্য সদস্যরা
জাইর তার দ্বিতীয় ছেলে ৪৩ বছর বয়সী কার্লোসকে পরিবারের ‘পিটবুল’ বলে ডাকেন। বাবার উদ্যোগেই ১৭ বছর বয়সে রাজনীতিতে কার্লোসের প্রবেশ ঘটে। মা রোজেরিয়ার বিরুদ্ধে রিও ডি জেনেইরো নগর পরিষদের নির্বাচনে তাঁকে দাঁড় করান জাইর। এর এক বছর আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল।
কার্লোস ওই নির্বাচনে জয়ী হন। পরে তিনি ঘটনাটিকে ‘মানসিকভাবে আঘাতকর’ বলে বর্ণনা করেন। পরবর্তী সময়ে বাবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমবিষয়ক কৌশল নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এ বছর দক্ষিণাঞ্চলীয় সান্তা কাতারিনা রাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন কার্লোস। তার ছোট ভাই ২৮ বছর বয়সী জাইর রেনানও একই রাজ্য থেকে আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
জাইর বলসোনারোর ৬২ বছর বয়সী ভাই রেনাতো বলসোনারো অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। তিনিও সাও পাওলো রাজ্য থেকে ডেপুটি নির্বাচিত হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন