প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জমির কাগজপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকির সময় যদি তা হাতে না থাকে, তাহলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে হয়। জমির মালিকানা যাচাই করা, কেনাবেচা বা আইনি প্রয়োজনের জন্য জমির দলিলের মতো পর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। আগে জমির পর্চা খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু এখন অনলাইনে এটি সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।
জমির পর্চা কী, এটি খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং নথিটির গুরুত্ব নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান একটি সংবাদমাধ্যমের সাথে আলোচনা করেছেন। তাহলে প্রতিবেদনের মাধ্যমে জমির পর্চার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।
জমির পর্চা হল খতিয়ানের প্রাথমিক বা খসড়া কপি, যা অফিসিয়াল কাগজ হিসেবে জমির বর্তমান মালিক বা দখলদারের প্রমাণপত্র। যেকোনো কারণে জমির ক্রয়-বিক্রয়, ব্যাংক ঋণ নেওয়া, নামজারি বা মিউটেশন এবং জমির সঙ্গে সম্পর্কিত জটিলতায় আদালতে এই কাগজটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পর্চা ছাড়া জমির মালিকানা আইনিভাবে দুর্বল হয়ে যায়।
বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির যুগে বাড়িতে বসে সাধারণত অনলাইনেই জমির পর্চা পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট মৌজা, খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করা সম্ভব। অনলাইনে আবেদন করার পর নির্ধারিত ফি প্রদান করলে পর্চার কপি সংগ্রহ করা যায়, যা ডাকযোগেও পাওয়া যেতে পারে।
জমির পর্চা খোঁজার জন্য ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজা বেছে নেওয়ার পর, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে সার্চ করতে হবে। যদি সঠিক তথ্য প্রদান করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে এবং বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে।
অনলাইনে জমির পর্চা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান বা দাগ নম্বর, এবং মালিকের নাম জানলেই হয়। এছাড়াও আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি সচল ফোন নম্বর এবং অনলাইন ফি প্রদানের ব্যবস্থাও থাকা উচিত। প্রয়োজনীয় সব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা হলে, সহজেই পর্চা পাওয়া যাবে।
অনলাইনে পর্চার সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের জন্য প্রথমে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান খুঁজে বের করতে হয়। এরপর নির্ধারিত ফি দেওয়ার পর আবেদন করতে হয়। আবেদন সম্পন্ন হলে সার্টিফাইড কপি অনলাইনে ডাউনলোড করা যায় অথবা ডাকযোগে আবেদনকারীর ঠিকানায় প্রেরিত হয়। এই কপি আইনি কাজে গ্রহণযোগ্য।
পর্চা এবং খতিয়ানের মধ্যে পার্থক্য হলো, খতিয়ান জমির পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড, যার মধ্যে মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি, অংশ এবং খাজনার বিস্তারিত তথ্য থাকে। অপরদিকে, পর্চা হচ্ছে ঐ খতিয়ানের একটি কপি, যা সাধারণত তথ্য যাচাই বা প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, খতিয়ান মূ্ল নথি এবং পর্চা হচ্ছে সেটির ব্যবহারযোগ্য কপি। উভয় কপিই জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন