প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংসদীয় কমিটি জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে, যা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘দুর্নীতির উদ্দেশ্যে’ গ্রহণ করা প্রকল্প বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে, উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এ. কে. এম. সেলিম রেজা হাবিব সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
কমিটির সভাপতি বলেন, “জনগণের স্বার্থে যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এবং বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির জন্য যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলো বাদ দিয়ে জনগণের স্বার্থে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা গুরুত্বারোপ করেছি। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং পদায়নের জন্য গুরুত্বারোপ করেছি।”
উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, “আমরা বলেছি, যেন সব কাজ টেকসই হয়। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে যা-ই নির্মাণ করা হোক, এগুলোর গুণগত মান যেন ঠিক থাকে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্তির পরে তিন বছর সেই বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে গুণগত মান ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে বাহিনী এখনো মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে কমিটি মনে করে। এ কারণে কিছুটা সময় নিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের কথাও বলেছে কমিটি। আগামী বছরের প্রথম দিকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রতি শনিবার দক্ষিণ প্লাজা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। সারা দেশে এ কর্মসূচি চলছে। তিনি বলেন, “এবার কিন্তু যেভাবে প্রতিবছর মশার যে পরিমাণ উপদ্রব ছিল, এবার কিন্তু সেটি ওইভাবে নেই। কিন্তু ডেঙ্গু কেন যেন এই মাত্রাটা অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটার জন্য বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। কারণটা কী? অতীতে ছিল যে মশার তাড়নায় কেউ ঘুমাতে পারেনি। কিন্তু এখন মশা নিয়ে এ রকম কোনো পত্রিকায় আমরা লেখালেখি দেখি না। কিন্তু ডেঙ্গু যাদের হচ্ছে, তাদের মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এটির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। আশা করি, এগুলোর সমাধান হবে।”
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি এ. কে. এম. সেলিম রেজা হাবিবের সভাপতিত্বে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম এবং রফিকুল ইসলাম খান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন