প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলামের সঙ্গে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পী (২৬) হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি আরিফ হোসেনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর এলাকায় তারেক হোসেন বাপ্পীকে (২৬) গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সময় গুলিতে তাফসির আলম শাওন (২২) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন।
নিহত বাপ্পীর ভাই রহিম খান বাবু জানিয়েছেন, বাপ্পী স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী সাদ্দামের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। হামলাকারীদের একজন বাপ্পীর বুকে গুলি করেন। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে বালু ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধ, স্থানীয় আধিপত্য, রাজনৈতিক বিরোধ, অথবা অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাপ্পীর বোনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পরপর দুবার মাইকিং করা হয়। প্রথম ঘোষণার প্রায় ১৫ মিনিট পর দ্বিতীয়বার সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। দ্বিতীয় ঘোষণার পরপরই তারা ভাইকে গুলি করার খবর পান। ঘোষণার সময় ও হত্যাকাণ্ডের সময়ের এই নৈকট্য স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। তবে ঘোষণাটি কে বা কারা দিয়েছিলেন, কী তথ্যের ভিত্তিতে তা প্রচার করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি সেলিম উদ্দিন, ফখরুল, ইমরান ও জাফরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, তারা কোনো টাকা-পয়সা বা ক্ষতিপূরণ চান না; ভাই হত্যার বিচার ও অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।
সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আরিফ হোসেন, ফখরুল, মান্নান, ইফতেখার, আরিফুল ইসলাম জাবেদ ও নুর আহমদ রনি—এই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের অবস্থান ও কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ ও ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যে ইতিমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল কাজ করছে।
আরিফ হোসেনের ছবি ভাইরালের বিষয়ে জানতে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমকে (বিপিএম) ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আবুহেনা মোস্তফা কামাল জানান, ওসির সঙ্গে অভিযুক্ত আরিফের ছবি ভাইরালের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন